Friday, 25 September 2026
শিরোনাম
জাতীয়

মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই সিভিল জজ হলেন ইবি শিক্ষার্থী

• 24 Sep 2026, 02:00 PM • পঠিত 34 বার
শেয়ার করুন:
মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই সিভিল জজ হলেন ইবি শিক্ষার্থী

মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ। তিনি ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধাক্রমে ২৬তম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারাদেশ থেকে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ১ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

 

জানা যায়, রাজু বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তার এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করছেন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। ‎ 

 

 

এ সফলতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাজু আহমেদ বলেন, আল্লাহ আমাকে প্রত্যাশার বেশি কিছু দিয়েছেন, আমি এতটা প্রত্যাশা করিনি যে আমার মেধাক্রম ২৬ আসবে৷ আল্লাহ তায়ালার কাছে সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নতুনদের জন্য উপদেশ থাকবে যে, শর্টকাট পড়াশোনা বাদ দিতে হবে, বিস্তারিতভাবে ও ভালো ভালো বইগুলো পড়তে হবে। ‎ ‎

 

 

 এই জার্নিতে তার চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মাস্টার্স রানিং থাকার জন্য অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এটাকে কন্টিনিউ করে দুইটা ব্যালেন্স করে পড়াশোনা করা চ্যালেঞ্জিং ছিলো। ইবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল জজ হওয়ার। আর প্রথম থেকেই পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে পারিনি। মূল পড়াশোনাটা শুরু করছিলাম থার্ড ইয়ার থেকে। কিন্তু আমি ভালো ভালো লেখকের বই থেকে পড়েছি। ‎ 

 

 

এ বিষয়ে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, এটা সত্যিই অনেক আনন্দদায়ক। এই অর্জন সকলের জন্য নতুন উদ্যম, অনুপ্রেরণা ও গর্বের বিষয়। আমরা আশাবাদী যে ভাইকে অনুসরণ করে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হব। 

 

 

আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন বলেন, যে সকল শিক্ষার্থী কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছে, তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা প্রত্যাশা করি, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তী জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে সাফল্যের শীর্ষে নিজেদের নিয়ে যাবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পেলে তারা আরও বেশি সাফল্য অর্জন করবে। আমরা আইন অনুষদের সকল শিক্ষার্থীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আমরা আশা করি তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে।

 

 

এ বিষয়ে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, তার এ সফলতায়  বিভাগের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সে ছিল যথেষ্ট বিনয়ী ও ভদ্র, আল্লাহ তার ওপর রহম করেছেন। আজকে তার এই অবস্থানের জন্য তাকে অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে। তার সেই প্রচেষ্টাগুলো বিভাগের বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সে যেন তার জীবনে উত্তরোত্তর সফলতা অর্জন করে এ কামনাই করি। বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন। ‎ ‎ ‎

 

 

উল্লেখ্য, ইসলামী আইন ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে বিভাগটির কার্যক্রম চালু হয়। এরপর থেকেই সাফল্যের সাথে আইনজীবী ও ফকিহ হয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। যারা গর্বের সাথে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আইন পেশায় নিযুক্ত আছেন। গত বছরেও ৪৫ জন শিক্ষার্থী আইনজীবীর সনদ পেয়েছেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।