সাত বছরের দাম্পত্য জীবন। এখনও সন্তান হয়নি তাদের। এই কারণ দেখিয়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন স্বামী। বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্বামীর পা ধরে কান্নাকাটি করেও স্বামী সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারেননি স্ত্রী। স্ত্রীর সেই কান্না ও অনুরোধেও মন গলেনি স্বামীর।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিশে এ ঘটনা ঘটে।
তালাকপ্রাপ্ত ওই নারীর নাম ইতি আক্তার (২৫)। তার স্বামী রনি খান পেশায় পোশাকশ্রমিক। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ইতির ভাই জুলহাস সরদার এ ঘটনার কথা জানান।
জুলহাস সরদার বলেন, সাত বছরের সংসার ভেঙে যাক, তা চায়নি আমার বোন। সালিশে স্বামীকে তালাক না দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করে ইতি। একপর্যায়ে স্বামীর পা ধরে কান্নাকাটি করে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানায়। কিন্তু রনি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। শেষ পর্যন্ত সন্তান না হওয়ার বিষয়টি কারণ দেখিয়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে।
জুলহাসের ভাষ্য, সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছাড়াও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী উপস্থিত ছিলেন। তারা রনিকে বুঝিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও সফল হননি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামের রিকিম আলী সরদারের মেয়ে ইতির সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় পাশের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাবনেরচর গ্রামের কাজল খানের ছেলে রনি খানের। বিয়ের পর থেকে তারা একসঙ্গে সংসার করছিলেন। বর্তমানে রনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নরসিংদীর মাধবদী থানার চৌদ্দ পাইকা এলাকায় বসবাস করেন।
রনি খান জানান, বিয়ের পর সাত বছর ধরে দেশের বিভিন্নস্থানের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়েছেন তারা। এতে তিনি জানতে পেরেছেন, তার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। এ কারণে স্ত্রীর সঙ্গে আর সংসার করতে চান না তিনি।





