Thursday, 8 October 2026
শিরোনাম
সারা দেশ

মুসল্লিদের ৮ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ উধাও ইমাম

• • পঠিত 17 বার
শেয়ার করুন:
মুসল্লিদের ৮ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ উধাও ইমাম
ছবি সংগৃহিত

জামালপুরের মেলান্দহে স্বর্ণের হারের প্রলোভন ও নানা অজুহাতে মুসল্লিদের কাছ থেকে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে এক মসজিদের ইমামের আত্মগোপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মুহা. মিজানুর রহমান উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব। এ ঘটনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগীরা মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগে মালঞ্চ জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগ দেন মিজানুর রহমান। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় মুসল্লিদের বিশ্বাস অর্জন করেন। সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট ও হংকং থেকে আসা স্বর্ণের নেকলেস দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি টাকা ধার নেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত মসজিদে নামাজ আদায় ও স্বাভাবিক চলাফেরা করলেও এরপর থেকেই স্ত্রী-সন্তানসহ তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

 

থানায় দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ইমাম মসজিদের মক্তব শিক্ষক জুবায়েরের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার, ব্যবসায়ী ইমরানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার, জাহাঙ্গীর মাস্টারের কাছ থেকে ৪০ হাজার, আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ২ লাখ, কাদেরের কাছ থেকে ৩০ হাজার এবং ইসমাঈল হোসেন রাজার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

 

টাকা হারিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মক্তব শিক্ষক জুবায়ের। বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার মূলধনের বড় অংশই তিনি ইমামকে দিয়েছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জুবায়ের বলেন, একজন মসজিদের ইমাম মানুষের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসের জায়গা। তিনি এমন করলে আমরা কার ওপর বিশ্বাস করব? অনেক কষ্ট করে জমানো টাকা হারিয়ে আমি এখন চরম সংকটে আছি। প্রশাসন যেন আমার টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করে।

 

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তর গাজিপুর এবং বর্তমান ঠিকানা ঢাকার যাত্রাবাড়ী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতে একাধিকবার কল করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

 

মালঞ্চ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন জানান, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সম্পর্কে কমিটি আগে কিছুই জানত না। এত অল্প সময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সবার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে দ্রুত সভা ডেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক ইমামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।