যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আগামী বুধবার বাইডেনের ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক মুহুর্তে বাইডেন এই সফর করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, চলমান সংঘাতের চরম সংকটময় মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরায়েলে যাচ্ছেন। দেশটির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন এবং গাজার সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করবেন বাইডেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিজ্ঞপ্তিতে ব্লিঙ্কেন বাইডেনের সফরের পাঁচটি উদ্দেশ্যর কথা উল্লেখ করেছেন।এর মধ্যে প্রথমেই ইসরায়েলে প্রতি সংহতি প্রকাশ করবেন বাইডেন।
হামাসের হামলায় অন্তত ৩০ জন আমেরিকানসহ ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সফরে বাইডেন এটি স্পষ্ট করবেন যে, হামাস ও অন্যান্য ‘সন্ত্রাসীদের’ হাত থেকে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধ করা ইসরায়েলের অধিকার ও কর্তব্য।
ব্লিঙ্কেন বলেছেন, কিছু রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্র এই সংকটের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। বাইডেন তাদের এসব না করার বার্তা দেবেন। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী গ্রুপ ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা মোতায়েন নিশ্চিত করবেন।
এ ছাড়া, হামাস কর্তৃক আটক পুরুষ, নারী, শিশু এবং আমেরিকান নাগরিকসহ জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় অব্যাহত রাখবেন।
বাকি দুই উদ্দেশ্যের মধ্যে আছে, বাইডেন ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ধারণা নেবেন। তিনি ইসরায়েলের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কে শুনবেন। সবশেষে, বেসামরিক হতাহতের পরিমাণ হ্রাস এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে আলাপ করবেন।
এসব উদ্যোগ যাতে হামাসের কোনো উপকারে না আসে সেটিও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।
এদিকে মিসর এবং গাজার সীমান্তে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা নিয়েও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে। গাজায় কীভাবে সাহায্য দেওয়া যায় এবং বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত চার দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন। তিনি ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরব বিশ্বের ছয় দেশ জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং মিসর সফর করেছেন। এই সফর শেষে গতকাল সোমবার ইসরায়েলে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেছেন।





