১৯৯৮ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার ২৪ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে তৃতীয় হলো ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তৃতীয় হওয়ার রেকার্ডটা অবশ্য চারবারের বিশ্বসেরা জার্মানির। চারবার তারা তৃতীয় হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ থাকে না। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুদল ভাঙা মন নিয়ে খেলতে নামে এই ম্যাচটা। তৃতীয় হতে পারলে ভালো, না হলেও ক্ষতি কিছু নেই-এমনটাই মনোভাবই থাকে দলগুলোর। তবে মাঠে নেমে জয়ের চেষ্টা করে ঠিকই।
আজ কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জয়ের জন্যই ঝাঁপিয়েছে ক্রোয়েশিয়া-মরক্কো। দুদলের ফুটবলারদের মধ্যে দেখা গেছে উত্তেজনাও। তুমুল লড়াই শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে হেসেছে গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াই।
সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনোরকম প্রতিরোধ গড়তে না পারা ক্রোয়েশিয়া এখানে ম্যাচ শুরু হতেই এগিয়ে যায়। সপ্তম মিনিটে মদ্রিচের ফ্রি কিকে ফাঁকায় বল পেয়ে ইভান পেরিসিচ হেডে বাড়ান ছয় গজ বক্সের সামনে, আর ডাইভিং হেডে পোস্ট ঘেঁষে গোলটি করেন ডিফেন্ডার ইয়োস্কো গাভারদিওল।
আসর জুড়ে অবিশ্বাস্য সব পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া মরক্কো পাল্টা জবাব দিতে দুই মিনিটও দেরি করেনি। ডান দিকের সাইডলাইন থেকে হাকিম জিয়াশের ফ্রি কিক তেমন ভালো ছিল না, তবে বক্সের মুখে ডিফেন্ডার লভরো মাইয়ের হেডে ফেরাতে গিয়ে উল্টো বল পাঠিয়ে দেন গোল মুখে। সেখানে হেডেই সমতা টানেন আশরাফ দারি। জাতীয় দলের হযে এই ডিফেন্ডারের এটাই প্রথম গোল।
প্রতিপক্ষের চাপের মুখে ২৮তম মিনিটে জিয়াশের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ভালো একটি আক্রমণ করে আশরাফ হাকিমি। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ছয় গজ বক্সে বল বাড়ান পিএসজি ডিফেন্ডার; কিন্তু একটু বেশি এগিয়ে ছিলেন ইউসেফ এন-নেসিরি। প্রায় টানা ১৫ মিনিট আক্রমণে আধিপত্য করে মরক্কো। এই সময়ে আরও কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে তারা; কিন্তু মেলেনি গোল।
এরপরই ৪২তম মিনিটে মিসলাভ অরসিচের দারুণ নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় ক্রোয়াটরা। ডি-বক্সের মুখে মরক্কো বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সতীর্থের পা ঘুরে বক্সের ডান দিকে পেয়ে যান অরসিচ। প্রথম ছোঁয়ায় নেন কোনাকুনি শট, বল দূরের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চললেও কোনো দলই আর গোলের দেখা পায়নি।





