Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

বেতন-ভাতা বন্ধ, মানববন্ধনে কাঁদলেন শিক্ষকরা

admin • 27 Jan 2024, 09:16 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
বেতন-ভাতা বন্ধ, মানববন্ধনে কাঁদলেন শিক্ষকরা

বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি করেন তারা। হঠাৎ বেতন বন্ধ হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কন্ঠে দ্রুত বেতন-ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

মানববন্ধনে ইবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুজাম্মিল হক মোল্লাহ, সহকারী শিক্ষক গোলাম মামুন, গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল আলীম, আনজুমান আরা, ফেরদৌসী খাতুন, আফরোজা বেগম, এনায়েতুন পারভীন, বুলবুল আহমেদ, মশিউর রহমান, জিয়ারুল ইসলাম, মর্জিনা আফরিন এবং কর্মচারী রফিকুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন ও রাবেয়া খাতুন উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শ্রেণির দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

 

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘আমারা সবাই পড়তে চাই, আমার শিক্ষকের বেতন চাই’, ‘শিক্ষকের বেতন নিয়ে টালবাহানা বন্ধ করো, করতে হবে’, ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’, ‘আমার শিক্ষকের বেতন বন্ধ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার শিক্ষক রাস্তায় কেন, প্রশাসন জবাব চাই’-সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

 

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়নি ইবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের। বিষয়টি সমাধানে ১৭ জানুয়ারি তারা রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে কোনো সমাধান না আসায় মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে তারা।

 

শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে স্কুলের জনবলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইইআর) এর ডেমনেস্ট্রেশন ইউনিটের জনবল হিসেবে আত্মীকরণ করা হয়েছে এবং সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের জনবলের মতো বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিলেও স্কুলের জনবলের বেতন বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে অন্য কোনো খাত থেকে নিয়ে বেতন দিতে পারে কিন্তু তারা সেটি করছে না। ফলে আমাদের বেতন বন্ধ হওয়ায় পারিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। আমাদের দাবি ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের বেতনের ব্যবস্থা করা হোক।

 

মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুজাম্মিল হক মোল্লাহ বলেন, ‘অন্যদের মতো আমাদেরও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসন নিয়োগ দিয়েছে। অন্যরা সময়মতো বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলেও আমাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। গত মাসে আমাদের কোনো বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়নি। এই মাসও শেষের পথে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আমাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরা যথা নিয়মে বেতন পেলেও আমরা কেন পাব না? আমাদের অপরাধটা কি? আমাদের কেন বেতন ভাতার দাবিতে মাঠে নামতে হবে। আজকে থাকার কথা ছিলো শ্রেণিকক্ষে, কিন্তু আমাদের মানববন্ধনে আসতে হয়েছে। এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।’

 

তিনি আরোও বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর হয়েছে। তবে এর আগে কখনও এমন হয়নি। এই প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের বেতন ভাতা পরিশোধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় বাবদ প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। তবে এই খাতে ইউজিসি থেকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয় না। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে ধার করে প্রতিষ্ঠানটির খরচ মেটাতে হয় প্রশাসনকে। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্বের মতো অর্থ বরাদ্দ পাচ্ছে না। এ ছাড়াও বর্তমানে কোনো ফান্ডেও পর্যাপ্ত অর্থ নেই। যে কারণে স্কুল-শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

 

আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘আইআইইআর ম্যানেজিং কমিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচালনা করে থাকে। ইউজিসি উনাদের ফান্ড পর্যাপ্ত দেয়নি। আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে শুধু ২০ লাখ টাকা দিয়েছে। এজন্য আইআইইআরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে ধার হিসেবে নিয়ে তাদের বেতন দেওয়া হতো। তবে প্রশাসন ধার নেওয়ার পর আর পরিশোধ করা হয় না। আমাদের আইআইইআর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খরচ আছে। হিসাব-নিকাশ করলে দেখা যায় ওই খাতে অর্থ ধার দেওয়ার জন্য আমাদের এখানে অর্থের সংকট পড়ে যায়।’

 

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘এক মাসের বেতন বন্ধ থাকায় তারা মানববন্ধন করেছে। তাদের বেতন এক থেকে দেড় বছর আগে ইউজিসি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে তাদের বেতন দেওয়া হতো। আমরা বিষয়টা নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।