আবারো এক নির্মম মৃত্যুর সাক্ষী হলো পাকিস্তান। দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের তোবা তেক সিং শহরে বাবা-মায়ের সামনেই নিজের বোনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে ভাই। আর ঘটনার সময় ওই দৃশ্য ধারণ করেছে অপর ভাই। পরে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ ওই তরুণীর বাবা-মা ও দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন বলছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ মার্চ রাতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মারিয়া বিবি নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করছে তার ভাই ফয়সাল। ওই সময় তার বাবা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর ভিডিও করেন অপর ভাই শাহবাজ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মারিয়ার ভাই ফয়সাল ও শাহবাজ, তাদের বাবা আব্দুল সাত্তার এবং শাহবাজের স্ত্রী সুমেরাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। শনিবার (৩১ মার্চ) ফের ১২ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ইবাদত নিসার গণমাধ্যমকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ফয়সাল এবং তার বাবা আব্দুল সাত্তার উভয়ে মিলেই মারিয়াকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি সে গর্ভবতী ছিল এবং তার পরিবার তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরান জাফর সন্দেহভাজনদের একজন শাহবাজের আইনজীবী ছিলেন। তবে শনিবার ঘোষণা দেন তিনি আর সন্দেহভাজন ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করতে চান না। পরে সংবাদ সম্মেলনে এই আইনজীবী বলেন, 'নির্দোষ বিবেচনা করে সন্দেহভাজনদের আইনজীবী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে, এখন যখন শাহবাজ স্বীকার করেছেন যে, তিনি মারিয়াকে বারবার ধর্ষণ করেছিলেন এবং তার স্ত্রী সুমেরা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভিকটিমের গর্ভপাতের চেষ্টা করেছিলেন, তাতে ব্যর্থ হয়ে তারা তাকে হত্যা করে। তখন আমি আদালতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে রক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'





