Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ফিচার ক্যাম্পাস

বইমেলায় আসছে তরুণ লেখক মুকুলের উপন্যাস "সময়ের ইতিকথা "

admin • 27 Aug 2023, 02:55 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
বইমেলায় আসছে তরুণ লেখক মুকুলের উপন্যাস "সময়ের ইতিকথা "

আগামী অমর একুশে বইমেলায়(২০২৪) প্রকাশিত হচ্ছে উত্তরের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তরুণ কবি ও কথাসাহিত্যিক মনিরুল ইসলাম মুকুল এর প্রথম উপন্যাস "সময়ের ইতিকথা" বইটি প্রচ্ছদ করেছেন, এপার -ওপার বাংলার পরিচিত মুখ শিল্পী সাকিল মাসুদ এবং প্রকাশ করছেন আইডিয়া প্রকাশনী। মোড়ক উন্মোচনের পর বইটি বাংলাদেশে আয়োজিত প্রতিটি বই মেলায় পাওয়া যাবে। এছাড়া অনলাইন থেকেও বইটি সংগ্রহ করা যাবে!

তরুণ কবি ও কথাসাহিত্যিক মনিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, "সময়ের ইতিকথা" আমার প্রথম উপন্যাস এবং চতূর্থ গ্রন্থ। উপন্যাসটিতে আমি পুরনো গল্পগুলোকে সময়ের সাচে সেঁচে যান্ত্রিকতার গল্পগুলো দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। ফুটিয়ে তুলেছি দুঃখ, বেদনা, প্রেম, ভালোবাসা, লোভ, বাংলার পুরনো ইতিহাস আর ঐতিহ্য।

এছাড়া তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে আমাদের বসবাস। অথচ বর্তমানকে আঁকতে উপন্যাসটিতে আমি কিছুটা পিছনে ফিরে গেছি। সেটা বর্তমান সময় থেকে এক দেড় যুগ আগের কথা। সে সময় চরাঞ্চল ছিলো সব দিক দিয়েই পিছিয়ে। আমি কল্পনা করতে গিয়ে আবিস্কার করি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নিত্যনতুন গল্পগুলো ।

এতে আমি চরাঞ্চলে অভাবের মধ্যে বসবাস করা দুটো পেশাকে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টার করেছি। হালুয়া আর বৈঠা চালিত নৌকার মাঝির জীবনকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যেতে থাকে উপন্যাসটি। চরাঞ্চলটিতে তখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি । কুসংস্কারও যেনো নিত্যনতুন সৃষ্টি। উপন্যাসটি শুরু হয় মনসুর আর সদানন্দের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে। গল্পে মনা একটি প্রধান চরিত্র। মনার জন্ম নিয়ে সমাজে একটা দ্বিমত লক্ষ্য করা গেলেও, মনা সমাজে বেঁচে থাকার একটা লড়াই করে গেছেন নিজেই নিজের সাথে । মনার মা একজন পতিতা। পতিতার সন্তান হওয়ায় সকাল থেকে রাত অবধি তাকে খটা দেয় কেউ কেউ। এদিক থেকে মনা বড্ড অসহায়। কিংবা এতিমও বটে।

 

তারপর মনা ভাগ্যের চাকায় জায়গা হয় মুনসুরের ঘরে। মনসুরের পালিতপূত্র মনা। মনা ও শাপলা কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেও, পার্শ্ব চরিত্রগুলো ছাড়া উপন্যাসটি যেনো অপূর্ণতাই থেকে যায়। উপন্যাসটি গড়িয়ে যেতে যেতে খুঁজে পাওয়া যায়- এক সময়ের পরিচিত গোয়ালার গান, খোয়ার, নকশিকাঁথা, আর সময়কে পেছনে ফেলে নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বড়ো বড়ো কলকারখানাগুলো। শাপলার প্রতি মনার অপ্রকাশিত ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত গোপনেই থেকে যায়। শাপলা সময়ের গল্পে ক'দিনের জন্য নতুন জীবন শুরু করলেও, জীবনের অপূর্ণতা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। শাপলার নতুন সংসারে অভাব কিংবা দারিদ্র্যতার দেখা মেলেনি কখনো । অথচ একসময় ভাগ্যটাই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়। ছ' মাস গড়িয়ে যেতে না যেতেই তার স্বামী রতন নদীর মাঝপথে নৌকা দূর্ঘটনায় পৃথিবীটাকে বিদায় জানায়।

সময়ের গল্পে চরাঞ্চলেও এক সময় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। নতুন নতুন কলকারখানা, বিদ্যুৎ, বৈঠা চালিত নৌকার বদলে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, গরুর হালের বদলে ট্রাক্টর। সিরাজের লাঠিয়াল বাহিনী কিংবা লতিফের সুদের ব্যবসা উপন্যাসটিতে করুণভাবে ফুটে ওঠেছে। মনাকে নিয়ে নতুন করে সংসার পাতার শাপলার আঁকুতি যেনো পাঠকের মনকে উপন্যাসের শেষে ভীষণভাবে নাড়া দেয় -

"জোনাকিরা একটু পর ঘুমিয়ে পড়বে। ওরাও হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। চাঁদের জোছনা কৃপণ হয়ে ওঠে। ঘুটঘুটে অন্ধকার। মনার নৌকায় হ্যারিকেনটা ক্লান্তিহীনভাবে জ্বলছে। ওরা দুজন মুখোমুখি। মনা বলল,  তুমি চইলা যাও! মাইনষে দ্যাখলে বদনাম দিবো! শাপলা ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলল, মাঝি আমারে নিয়া যাও তোমার চরে!

সময়ের গল্পে অনেক গল্পই হারিয়ে ফেলেছে মনা। মনার মাঝে আজকে একটা দুঃসাহস কাজ করে। যে সাহস এর আগে কখনোই হয়ে ওঠেনি তার। মনা ধরা গলায় বলল, আমার চরে জায়গা নাই!" লেখক জীবনের বিরহ কিংবা ভালোবাসার অপূর্ণতার মধ্যে দিয়ে উপন্যাসটি ইতি টেনেছেন। এ যেনো সময়ের ইতিকথার সময়ের নীল বেদনার আখ্যান।

উল্লেখ্য, তরুণ কবি ও কথাসাহিত্যিক মনিরুল ইসলাম মুকুলের আরো বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ- কাব্যগ্রন্থ "শান্ত মেঘে লুকিয়ে তুই"(২০২০) উপন্যাসিকা "মৃত্যুর পাণ্ডুলিপি" (২০২১) গল্পগ্রন্থ "শয়তান গ্রহ" (২০২২) নবীন শাখায় পেয়েছেন ইউএস বাংলা সাহিত্য সম্মাননা -২০২২

মনিরুল ইসলাম মুকুল এর জন্ম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাতগাঁও গ্রামে। পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।