সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে আবারও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার (৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এই কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে অবস্থানরত প্রানরসায়ন ও অনুপ্রান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল হাসান বলেন, আসলে যে প্রজ্ঞাপন টা জারি হয়েছে পেনশন এর বিষয়টি সর্বজনীন হলেও এখানে প্রজ্ঞাপনে ৩ শ্রেনীপেশার মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে,দ্বিতীয়ত সসস্ত্র বাহিনী, তৃতীয়ত বিচারক। বর্তমান যে শ্রেনীপেশার মানুষ শক্তিশালী সরকার যাদের উপর নির্ভরশীল তাদেরকে এর বাহিরে রাখা হয়েছে।যদি বিষয়টি সর্বজনীন হয়েই থাকে তাহলে এই ৩ শ্রেনির মানুষ দের বাহিরে রাখা হতো না,আমার মনে হয় কেউ না কেউ সরকার কে এই বিষয়ে প্রভাবিত করতেছে।
এবং তিনি আরও বলেন,জার্মানির চ্যান্সেলর এর কাছে তার কর্মকর্তারা একবার প্রশ্ন করেছিলেন শিক্ষকদের বেতন আমাদের চেয়ে বেশি কেন,উত্তরে তিনি বলেন যারা তোমাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন তোমরা কি তাদের থেকে বেশি বেতন আশা কর।সুতরাং শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় সেখানে শিক্ষকদের মর্যাদা ভূলন্ঠিত করা খুবই দুঃখজনক।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক হাসনা হেনা বলেন,সরকার পেনশনের বাহিরে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক দের সাথে যে আচরণ করেছে তা পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার সমতুল্য। সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপনকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। সরকার সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন যদি প্রত্যাহার না করে তাহলে আমরা রাজপথ ছাড়বোনা।
রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন,এ প্রত্যয় স্কিমে আমাদের কোন সুবিধা থাকবে না।আমরা প্রতিমাসে যে টাকা জমা করবো,পেনশনের সময় সে টাকাই আমাদের ফেরত দেওয়া হবে।আজকে আমরা এই জায়গা দাড়িয়েছি আমাদের জন্য না,তোমাদের সুরক্ষার জন্য যারা ভবিষ্যৎ এ এই পেশায় আসবে এবং যারা পরবর্তীতে বিভিন্ন পদে যোগদান করবে তাদের কথা ভেবে।
একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও দেশকে রক্ষার জন্য আজকের এই কর্মসূচী।যদি আমাদের এই দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া না হয় তাহলে আমরা আগামী ২৫,২৬ ও ২৭ জুন অর্ধ কর্ম বিরতিতে যাব।তারপরও যদি আমাদের আন্দোলন এর কোন সূরাহ না হয় তাহলে ৩০ জুন আমরা পূর্ন কর্মবিরতিতে যাব এবং এরপরও যদি এই ব্যপারে কোন সিদ্ধান্ত না আসে তাহলে ১ জুলাই থেকে আমরা সকল ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ ঘোষনা করবো।





