জুলাই বিপ্লবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হামলাকারী ও হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে পুনরায় মানববন্ধন করেছে গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন, জাবি।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। পরে মিছিলটি নতুন কলা ভবন প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয় এবং সেখানে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হারুনুর রশিদ রাফি বলেন, আমাদের উপর যারা হামলা করেছে, আহত করেছে, শহীদ করেছে প্রশাসন যদি এই সন্ত্রাসীদের বিচার না করে দেশ চালাতে চায় তাহলে কখনোই সুষ্ঠুভাবে দেশ চালাতে পারবে না। ক্যাম্পাসে ১৫ জুলাই যারা হামলা চালায়, হত্যাকাণ্ড চালায় তখন অসংখ্য শিক্ষার্থী শহীদ হওয়ায় সম্ভাবনা ছিল। কি ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেদিন, আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু সেই সকল হামলাকারী সন্ত্রাসীরা আমাদের আশে পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ প্রশাসনের উচিত ছিল দ্রুত সময়ে মধ্যে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যাবস্থা নেয়া। প্রশাসনের কাছে আমাদের আহবান থাকবে যাদের নামে মামলা হয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা এবং হামলার সাথে জরিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অতি দ্রুত রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা করে ব্যাবস্থা নেয়া।
মানববন্ধনে জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের হামলার বিচার চাই, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হয়েছে অথচ আমরা দেখছি তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো দেশে যত হামলা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার আমরা চাই। আমরা চাই আমাদের ভাইয়েরা যেন সুবিচার পায়। ৫ই আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার দোসররা গা ঢাকা দিয়েছে কিন্তু ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আমাদের উপর যারা হামলা করছে তাদের কারো ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম একটা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করতে, কিন্তু এখনো আমাদের আশার প্রদীপ নিভে আছে। আমরা স্বৈরাচারীকে যেভাবে হটিয়েছি প্রয়োজন দ্বিগুণ শক্তি দিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আবার রুখে দাড়াবো।
সমাপনী বক্তব্যে গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক আবদুর রশিদ জিতু বলেন, গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে চার মাস সাতদিন পরে জুলাই বিপ্লবে হামলাকারী ও হামলার সাথে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে হামলার মদদদাতাদের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এখানে দাড়িয়েছি। যেখানে জুলাই বিপ্লবে আহতরা হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে, শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে অসহ্য যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে সেখানে আপনারা শিক্ষকরা বসে বসে শিক্ষক রাজনীতির সমীকরণ মিলাচ্ছেন। যে শহীদ মিনার থেকে কোটা আন্দোলন শুরু করেছি, ৫ই আগস্ট শপথ নিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে লং মার্চের ঘোষণা দিয়ে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়েছি, সেই জায়গা থেকে প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা না হয়, আপনারা যদি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করেন তাহলে আগামী সাতদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সম্পুর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৪ ও ১৫ জুলাই জাহাঙ্গীরনগরে হামলাকারী ও হামলায় মদদদাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এর আগে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছিল।
সোহাগ / মিরর





