Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

জাবিতে নিরাপত্তা সংকট: প্রশাসনের পাশাপাশি দায় কার?

Sohag Shah • 15 May 2026, 05:13 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
জাবিতে নিরাপত্তা সংকট: প্রশাসনের পাশাপাশি দায় কার?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ, নিরাপত্তাহীনতা ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা। তবে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য শুধু প্রশাসন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের উদাসীনতাও অনেকাংশে দায়ী।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আইডি কার্ড দৃশ্যমানভাবে ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানতে অনীহা দেখা গেছে সংশ্লিষ্টদের অনেকের মধ্যেই। ফলে গেটে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য বহিরাগত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ গেটে দায়িত্ব পালন করা একাধিক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। বিশেষ করে শুক্রবার, শনিবার ও ছুটির দিনগুলোতে দিনে-রাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিথিদের আনাগোনা অনেক বেড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেটে কর্মরত এক গার্ড বলেন, “আমরা অনেক সময় অপরিচিত কাউকে আটকাই। তখন তারা ফোন দেয় কোনো শিক্ষার্থী বা স্যারকে। পরে আমাদের ছেড়ে দিতে বলা হয়। তখন আর কিছু করার থাকে না। এইযে গতকাল রাতেই একজন শিক্ষার্থী ফোন করে ১০ জন গেস্ট নিয়ে গেছে। এমন্তাবস্থায় খাতায় এন্ট্রি করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকে না।”

ডেইরি গেটে কর্মরত এক গার্ড বলেন, “আইডি কার্ড দেখতে চাইলে অনেক শিক্ষার্থী সহযোগিতা করে। কিন্তু অনেকেই বিরক্ত হয়, তর্কে জড়ায়। কেউ কেউ বলে, ‘আমাকে চিনেন না?’—এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে যায়।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এইচ হল গেটে দায়িত্ব পালন করা আরেক গার্ড বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী নিজেরাই আইডি কার্ড সঙ্গে রাখে না। আবার বহিরাগতদের নিজেদের গেস্ট পরিচয় দিয়ে ভিতরে নিয়ে যায়। পরে কোনো সমস্যা হলে দায় শুধু গার্ড বা প্রশাসনের ওপর পড়ে।”

এ বিষয়ে নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা যথেষ্ট কাজ করি। আমাদের যে গার্ড, আনসার সদস্যরা রয়েছেন তারা সকলে যথেষ্ট দায়িত্বশীল। আমাদের বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু এই অল্প সংখ্যক জনবল নিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। কিছু হলেই দায় সরাসরি নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের উপর চলে আসে। কিন্তু আমরা তো আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এখানে শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষকদেরও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, "আমাদের নিরাপত্তা শাখায় তেমন একটা ভালো গাড়ি নেই। আমাদের ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো নেই। ক্যাম্পাসের অনেক জায়গায় জঙ্গল-আগাছা দিয়ে পরিপূর্ণ। আমরা যথাযথ জায়গায় এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছি। কিন্তু তারা কাজ না করলে আমাদের উপর দায় দিলে কি হবে?"

নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, গেটে কঠোরতা আরোপ করতে গেলে প্রায়ই প্রভাবশালী পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ফোনকলের মুখে পড়তে হয়। ফলে নিয়ম বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা থাকে না।

এদিকে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, শুধু প্রশাসনের সমালোচনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হলে আইডি কার্ড বহন, গেস্ট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ—সব ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমাদের ক্যাম্পাসে বহিরাগত সমস্যায় নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সমানভাবে জড়িত। কেননা আমার গেস্ট অপর এক শিক্ষার্থীর কাছে বহিরাগত হিসেবেই বিবেচ্য হবে। তাই আমাদেরও এসব বিষয়ে একটু সচেতন হওয়া উচিত।"

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, "আমি নিজেও দেখেছি অনেক শিক্ষার্থীদের কার্ড দেখতে চাইলে কিংবা নাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তারা গার্ড মামাদের সাথে খারাপ আচরণ করে, তর্কে জড়ায়। আমার মনে হয়ে আমাদের এসব বিষয়ে আরেকটু সহনশীলতা আচরণ করা উচিত।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, হ্যাঁ, আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার নোটিশ দিয়েছিলাম বিভিন্ন ইস্যুতে যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্ব স্ব আইডি কার্ড বহন করতে হবে। কিন্তু এমন নির্দেশনা মানতে অনেকেই অসহযোগীমূলক আচরণ দেখিয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও আমাদের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিপুল সংখ্যক অতিথির আনাগোনায় আমাদের গার্ডদের আর কিছু করার থাকে না। কাউকে আটক করলে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন করে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন্তাবস্থায় আমাদের আসলে কিছু করার থাকে না। কারণ বহিরাগত বলতে এরা কারোর না কারোর গেস্ট।

সোহাগ/মিরর

 
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।