Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

জাবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে নারী প্রক্টরের পোশাক নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ

admin • 02 Jan 2025, 12:37 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
জাবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে নারী প্রক্টরের পোশাক নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) থার্টি ফার্স্ট নাইটে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাতভর চলা অভিযানের সময় এক নারী সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্বপালনে বাধা প্রদান ও পোশাক নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে।

 

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা নবীনুর রহমান নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ ব্যাচের (২০০৯-১০ সেশন) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

 

ঘটনা তদন্তে গিয়ে জানা যায়, থার্টি ফার্স্ট নাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রক্টরিয়াল বডি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছিলেন। এসময় ৮-১০ জনের একটি দল প্রাইভেট কারে করে যাচ্ছিলো। তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একজন মেয়ে নিজেকে ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। এসময় জাবি ছাত্রদল নেতা নবীন এসে প্রক্টরিয়াল টিমের অনুমতি ছাড়াই মেয়েটিকে চলে যেতে বলেন। তখন সহকারী নারী প্রক্টর তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তিনি সহকারী প্রক্টরের কাছে তেড়ে এসে দুর্ব্যবহার করেন এবং রূঢ় ভাষায় কথা বলেন। এসময় ছাত্রদল নেতা সহকারী প্রক্টরের পোশাক নিয়ে কটূক্তি করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ ঘটনার প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ইতোমধ্যে আমাদের কাছে এসেছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা নবীনুর রহমান নবীন বলেন, আমরা কয়েকজন হাঁটছিলাম। তখন দেখলাম একটি গাড়িকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং একজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হচ্ছে। আমি ক্যাম্পাসের সাবেক একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সেখানে কথা বলছিলাম পরিস্থিতি ঠিক করার জন্য। আমরা সবাই মিলেই তো ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখবো তাই না? সাবেক হয়েছি বলে কি থার্টিফার্স্ট নাইটে নিজেদের মতো ঘুরতে পারি না?  আগে তো আমরা সবাই মিলে ঘোরাঘুরি করতাম। আমরা তো ক্যাম্পাসে কোন অপকর্ম করতে আসিনি, আমাদের গাড়ির কাগজপত্র দেখিয়েছিলাম সেখানে।

 

এদিকে প্রক্টর অফিসে খবর নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে গাড়ি চলাচলের যে পাশ ব্যবহার করা হয়েছে তার মেয়াদ আরও কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছে।

 

হেনস্তার স্বীকার হওয়া সেই নারী প্রক্টরের কাছ থেকে ঘটনা জানতে চাইলে শামীমা নাসরিন জলি বলেন, আমরা দায়িত্বপালন করছিলাম। একজন ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত গাড়ি চালাচ্ছিল। আমরা ক্যাম্পাসে এটি আপাতত নিষেধ বলে বুঝানোর চেষ্টা করছিলাম। এসময় নবীন এসে তাদের চলে যেতে বলে। আমি খুবই নমনীয় ভাষায় তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আমার সাথে কথা বলেন। আমার পোশাক নিয়ে কটূক্তি করেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কেন পোশাক নিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হবে? নতুন স্বাধীনতার পর এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।

 

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমার সহকর্মীর সাথে যেটি ঘটেছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। তিনি যদি লিখিতভাবে অভিযোগ জানান তাহলে এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

এদিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে নারীদের পোশাক নিয়ে কটুক্তি করার মতো হীন ঘটনা প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুধবার (১ জানুয়ারি) বটতলা এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিল করবেন বলে জানা গেছে।

সোহাগ/মিরর 

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।