Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

জাবিতে ইভটিজিং এর অভিযোগে রাবি শিক্ষার্থী আটক

Sohag Shah • 29 Jun 2025, 03:48 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
জাবিতে ইভটিজিং এর অভিযোগে রাবি শিক্ষার্থী আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পূর্বপরিচিত এক বান্ধবীর সাথে দেখা করতে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৮-১৯ সেশনের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানা। পরে তিনি সেই বান্ধবীর সাথে দেখা করে কথপোকথনকালে জোরপূর্বক হাত ধরতে উদ্ধত হন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৫২ তম আবর্তনের সেই শিক্ষার্থী পরে প্রক্টর বরাবর হেনস্তার একটি অভিযোগ পত্র দেন।

রোববার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্ত সেই ছেলের নাম সোহেল রানা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ সেশনের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তার বাসা সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানায়। বর্তমানে চাকরি খুজতে ঢাকার লালবাগে অবস্থান করছেন। তার পিতার নাম মো. হানিফ মোড়ল।

 

অভিযোগকারী অর্থনীতি বিভাগের ৫২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, এই ছেলে আমাকে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ডিস্টার্ব করে আসছে। এ ব্যাপারে আমি আমার বাসায় জানানোর পর আমার বাবা তার পরিবারে তার মায়ের সাথে কথা বলে। পরে ছেলেটি কিছু গুন্ডা ভাড়া করে আমার বাবাকে মারধর পর্যন্ত করে। আমাকে অনেকভাবে হেনস্তা করে।

 

তিনি আরও বলেন, আজকে ওই ছেলে আমার সাথে দেখা করতে আসে। আমাকে জোরপূর্বক একা দেখা করতে বাধ্য করে। আমাকে হুমকি দেয় যে আমি আমার সাথে বন্ধুদের নিয়ে গেলে সে আমার বন্ধুদের মারবে এবং জেলে যাবে। পরে আমি একা দেখা করি এবং দূর থেকে আমাদের দেখে আমার বন্ধুরা আসলে ছেলেটি আমার বন্ধুদের মারার হুমকি দেয়। এমন্তাবস্থায় আমি এবং আমার পরিবার কেউ নিরাপদ মনে করছি না। তাই আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দিয়েছি যেন তিনি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং আমাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অর্থনীতি বিভাগের ৫২ তম আবর্তনের ফাররাজ আহমেদ জানান, আমার বান্ধবীর সাথে ওই ছেলেটি খারাপ আচরণ করলে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সেখানে যাই। পরে ওই ছেলে আমাদের ভয় দেখান এবং হুমকি দেন আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে গেলে তিনি আমাদের মারবেন।

 

ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অর্থনীতি বিভাগের ৫২ তম আবর্তনের কাজী নাহিদা আক্তার প্রমা জানান, আমার বান্ধবীকে ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে হেনস্তা করে আসছে। সে ভয়ে কিছু বলতে পারে না। আজকে ছেলেটি ক্যাম্পাসে আসে এবং জোরপূর্বক দেখা করে হেনস্তা করে। আমরা এই ঘটনার কঠিন থেকে কঠিনতম বিচার দাবী করছি এবং সেই সাথে আমার বান্ধবী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি।

 

ঘটনায় অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, আমি আজকে তার সাথে দেখা করতে আসি। আমরা পূর্ব পরিচিত ছিলাম এবং আগে একই জায়গায় থাকতাম। আমাদের ফেসবুকে কথা হয়। আজকে আসার সময় আমি তাকে জানাই দেখা করার জন্য। পরে আমি তাকে বলি দেখা করতে।

 

একা দেখা করার জন্য হুমকি দিয়েছিলেন কি না জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান হ্যাঁ, আমি এরকম কথা বলেছি। আমি এটা এমনি বলেছিলাম তখন, কিন্তু তার বন্ধুরা এর জন্য এখন অভিযোগ করছে।

 

আজকে কি হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকে আমি সাড়ে নয়টায় ক্যাম্পাসে আসি এনং এখানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আমার কিছু বন্ধুদের সাথে দেখা করি। পরে আমি ওই মেয়ের সাথে দেখা করতে যাই। শহীদ মিনারে দেখা করি এবং এক পর্যায়ে তার বন্ধুরা এসে পরে আমাকে হেনস্তা করার অভিযোগে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে৷

 

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশেদুল আলম বলেন, আমি জরুরি একটা মিটিংয়ে আছি। মিটিং শেষ হলেই আমি অফিসে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

 

প্রক্টর অফিসে গেলে সেখানে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে আমাদের শিক্ষার্থীর থেকে অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেছি। আমরা ছেলেটিকে আটক করেছি এবং প্রক্টর স্যার আসলে আমরা অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়ের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

 

সোহাগ/মিরর

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।