Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জাতীয়

চাকরিজীবী থেকে যেভাবে বই বিক্রেতা হয়ে উঠলেন টিপু সুলতান

admin • 16 Feb 2024, 10:49 AM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
চাকরিজীবী থেকে যেভাবে বই বিক্রেতা হয়ে উঠলেন টিপু সুলতান

নাম টিপু সুলতান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দেশের অনেকেই এখন তাকে চেনেন। এছাড়া যারা উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে নিয়মিত ট্রেন ভ্রমণ করেন তাদের মধ্যে অনেকেই আগে থেকেই তাকে চেনেন। কারণ তিনি মূলত ট্রেনে ফেরি করে বই বিক্রি করেন। কিন্তু এবার অমর একুশে বইমেলায় ফেরি করে বই বিক্রি করে আলোচনায় আসেন টিপু সুলতান। এছাড়া বইমেলায় ফেরি করে ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজি শব্দের বানান জিজ্ঞাস করে আরও বেশি আলোচনা সমালোচনায় পড়েন তিনি।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে তার বহু ভিডিও, ছবি এবং মিম ছড়ি পড়েছে। এগুলোতে দেখা যায়, শুধু ইংরেজি ভাষা এবং নিজের বই নিয়েই নয়, বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন তিনি। জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই তার লেখক হওয়ার স্বপ্ন ছিল।

কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার বোয়লিয়া ইউনিয়নের সরিষাডুলী গ্রামে ১৯৭১ সালের ২৩ মে জন্মগ্রহণ করেন টিপু সুলতান। তাহাজ উদ্দিন বিশ্বাস এবং রমেছা খাতুনের চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট তিনি। বর্তমানে স্ত্রী এবং দুই সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। সরিষাডুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক এবং পাশের গ্রামের শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজ থেকে এইচএসসি এবং মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন।

পড়ালেখা শেষে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় এসে নিউ ইস্কাটন রোডে একটি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন তিনি। সেখানে ১১ মাসের মতো চাকরি করার পর সেতু অ্যাসোসিয়েটস নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে সিসিটিভি ও টেলিকমিউনিকেশনের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায়ীক ব্যস্ততার মাঝেই ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই ‘রেলপথে বাংলাদেশ’। এই ভ্রমণ গাইডটির ১ লাখ ২৩ হাজার কপি বিক্রীত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

২০২০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘বোনাস’ নামে আরেকটি বইটি। এই বই দুটির পাশাপাশি তিনি আটটি মানচিত্র তৈরি করেছেন। তার ‘কুষ্টিয়া জেলার মানচিত্র’ এবং ‘মেহেরপুর জেলার মানচিত্র’-তে প্রতিটি ইউনিয়নের পৃথক ভৌগোলিক এলাকা ও গ্রামের সঠিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিটি উপজেলার পৃথক ভৌগোলিক এলাকা ও ইউনিয়নের সঠিক অবস্থান তুলে তিনি তৈরি করেছেন ‘বাংলাদেশ প্রশাসনিক মানচিত্র’। ৪০৫টি নদীর গতিপথসহ বাংলাদেশের নদ-নদীর মানচিত্র, ৪৬৬টি স্টেশনের নামসহ ‘রেলপথে বাংলাদেশ মানচিত্র’, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভবনের নামসহ ‘ঢাকা সিটির মানচিত্র’, ভারতের প্রতিটি প্রদেশের পৃথক ভৌগোলিক এলাকা, বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানী, গুরুত্বপূর্ণ শহর, হাসপাতালের নাম, ঠিকানা, ই-মেইল ও টেলিফোন নম্বরসহ ‘ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানচিত্র’, পৃথিবীর প্রতিটি দেশের পৃথক ভৌগোলিক এলাকা, রাজধানী ও প্রধান প্রধান শহরের নামসহ ‘পৃথিবীর মানচিত্র’ তৈরি করেছেন তিনি।

ফেরি করে বই বিক্রির বিষয়ে টিপু সুলতান জানান, ২০১৭ সালে ‘রেলপথে বাংলাদেশ’ বইটি ১০ হাজার কপি প্রিন্ট করেন। বিভিন্ন রকমের লিফলেট বিতরণ করে কাজ হলো না। বই বিক্রি হলো না। বই বিক্রি করে দেয়ার জন্য কোনো হকার খুঁজে পেলেন না। পরে বইগুলো বাসায় এনে রেখে দেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি লেখাপড়া শিখেছি, ঠিকাদার মানুষ। আমার বংশ মর্যাদা আছে, অর্থ আছে; আমি ফেরি করবো সেটা কি শোভা পায়? আমি তখন একটা সেনটেন্স (বাক্য) বললে তাকিয়ে দেখতাম কেউ দেখে ফেললো কি না। দেখে ফেললে আমার নিজেরই লজ্জা লাগতো।

এরপর ধীরে ধীরে তিনি এই কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন এবং পেশা হিসেবেই বেছে নেন। ফেরি করে বই বিক্রির সুবাদে অনেক অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা এবং উপহার পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।