Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

ইমাম নিয়োগ নিয়ে উত্তাল ইবি, দিনভর উত্তেজনা

admin • 07 Feb 2024, 10:06 AM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
ইমাম নিয়োগ নিয়ে উত্তাল ইবি, দিনভর উত্তেজনা

কেন্দ্রীয় মসজিদে ইমাম নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। এই নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ। শিক্ষক, কর্মকর্তাদের একাংশ নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তবে অন্যপক্ষ ও ছাত্রলীগ সম্মিলিত হয়ে নিয়োগ বোর্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই নিয়ে দিনভর উত্তেজনা ছিল ক্যাম্পাসজুড়ে।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবিতে ভিসির সঙ্গে দেখা করতে তার কার্যালয়ে যান শিক্ষকদের একাংশ। সেখানেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা বাঁধে। পরে ‘ভিসির পেটুয়া বাহিনী কর্তৃক শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে’ অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি করেন ওই শিক্ষকরা।

জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম পদে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল সাড়ে নয়টায় নিয়োগ বোর্ড বাতিলসহ ১২ দফা দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে কর্মকর্তা সমিতি। পরে তারা দাবি নিয়ে ভিসির কার্যালয়ে দেখা করতে যান। এসময় ভিসির বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ বোর্ড বন্ধ রাখার দাবি জানান। একইসঙ্গে কোনভাবেই বোর্ড করতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন কর্মকর্তারা।

এরই মাঝে প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন, সাধারণ সম্পাদক ড. রবিউল হোসেন ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একাংশ ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এসময় নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ভিসির কাছে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার দাবি জানান।

এদিকে শিক্ষকরা অবস্থানকালীন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ‘দালাল, দুর্নীতিবাজসহ বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে শোনা যায়। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিয়োগ বোর্ড চলমান রেখে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের দাবি জানান। সেখানেই একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে ঘটনা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হয়। পরে দীর্ঘক্ষণ নিয়োগ বোর্ডের পক্ষে-বিপক্ষে বাকবিতন্ডা চলে। পরে শাপলা ফোরামের শিক্ষকরা ভিসির কার্যালয় থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে মানববন্ধন করেন। এসময় তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

তাদের দাবিগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল নতুন নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু চেয়ারে অধ্যাপক নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত অন্য কোন নিয়োগ দেয়া যাবে না, বিভাগের প্লানিং কমিটির সুপারিশ মোতাবেক বিশেষজ্ঞ সদস্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ শুরু করা যাবে না এবং ইতোমধ্যে প্রচারিত সকল দুর্নীতির তদন্ত দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে।

এদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাধার মুখে দুপুর পর্যন্ত নিয়োগ বোর্ড শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। দুপুরের দিকে নিয়োগপ্রার্থীদেরকে কর্মকর্তারা প্রশাসন ভবন থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিয়োগ বোর্ড শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট বলেন, ভিসির বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ এখনও সুরাহা হয়নি। এরই মাঝে তিনি নিয়োগ বোর্ড চালু করছেন। অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ বোর্ড যেন না হয় সেটাই আমাদের দাবি।

এর আগে, সোমবার ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বোর্ডের একদিন আগে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এর সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এর সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, নিয়োগ বোর্ড নিয়ে কর্তৃপক্ষ যাদের যোগ্য মনে করবে তাদের নিয়োগ দিবে। এখানে ছাত্রলীগের কোন বিষয় নেই। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক থাকুক।

বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, সম্প্রতি ভিসির বিভিন্ন অডিও ফাঁস হয়েছে। বিষয়টি সুরাহা করার জন্য উনাকে বারবার চাপ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে ইউজিসি তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই তিনি নতুন নিয়োগে যাচ্ছেন। এছাড়াও ইমাম নিয়োগ নিয়ে গতকাল একটা অডিও ফাঁস হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আজকে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি নজীরবিহীন ঘটনা। আমি বিষয়টি তে মর্মাহত। আমি মনে করি যারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের যে মান মর্যাদা সেটি নষ্ট করেছে। আমি এই বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ আশা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, নিয়োগ নিয়ে (ভিসি, ছাত্রলীগের) বিভিন্ন অডিও ভাইরাল হয়ছে। ইমাম নিয়োগ বাণিজ্য নিয়েও সম্প্রতি চ্যাট ভাইরাল হয়ছে। দুর্নীতির অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ যেন বন্ধ থাকে তা নিয়ে আমরা ভিসির কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলাম। সেখানে ভিসির মদদপুষ্ট বহিরাগত পেটোয়াবাহিনী দিয়ে আমাদের অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। এর পিছনে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, আমি এসব নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নই। মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে যে চ্যাট ভাইরাল হয়ছে ওটাতে জড়িত কি না জানতে চাইলে ভিসি বলেন, আমি এসব জানি না। ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার কোন যোগসূত্র নাই। আমি এই চেয়ারে বসে কোন প্রকার অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নই।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।