Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জাতীয়

সাংগু নদীতে ফুল দিয়ে চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যাদের বিঝু-বিষু উৎসব শুরু

admin • 12 Apr 2023, 07:38 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
সাংগু নদীতে ফুল দিয়ে চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যাদের বিঝু-বিষু উৎসব শুরু

আধিবাসীরা দীর্ঘকাল থেকে জুম চাষের উপর নির্ভরশীল ছিল। জুম চাষ যেহেতু উঁচু জায়গায় বা পাহাড়ে করা হয় সেহেতু সেখানে পানির ছড়া কিংবা ছোট হৃদ থাকা স্বাভাবিক। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে পানি প্রবাহিত হয়ে সৃষ্টি হয় ঝর্ণা। ঝর্ণার জীবিতাবস্থায় ছড়া বা ছোট নদীর অস্তিত্ব থাকে।

 

সেই পাহাড়ী ঝর্ণা ও ঝর্ণা থেকে সৃষ্ট ছোট নদী তাদের পানির অভাব পূরণের প্রধান উৎস। মিথ অনুসারে পানির দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য গঙা মা বা জলদেবীর উদ্দেশ্য করে ছড়া পাড়ে বা গাঙের তীরে কলাপাতায় ফুল রেখে তার উপর তেলচাদি (বাঁশের কুপি) জ্বালিয়ে প্রণাম জানানো হয়।

 

এ রীতি অবশ্যই তান্ত্রিক সমাজে বিশেষ কোন উৎসব হিসেবে নয় বরং পূজা হিসেবে পরিগণিত হয়। এ রীতির পরিসর যখন বৃহদাকার ধারণ করে তখন সেটা আর পূজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, হয়ে ওঠে দারুন এক উৎসব। নামকরণ হয় ফুল বিঝু। বিঝু উৎসবের তিন দিনের মধ্যে ফুল বিঝু প্রথম দিন।

 

ফুল বিঝু শুরু হয় বসন্তের শেষদিকে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চৈত্র মাসের ২৯ তারিখ অর্থাৎ বছর শেষ হওয়ার একদিন আগে। ঐদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আনন্দের সহিত হরেক রকমের ফুল তোলা হয়।

 

উল্লেখ্য যে, ঐসময় বাড়ির আঙ্গিনায় ফোঁটা ফুল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। সেজন্য সকল বয়সী ছেলে-মেয়েরা বিনা অনুমতিতে ফুল সংগ্রহ করতে পারে।

 

বুনো ফুলের মধ্যে ভাতঝরা ফুল আর বাড়ির আঙ্গিনায় উৎপাদিত দেশি-বিদেশী ফুলের মধ্যে কাঠগোলাপ (বক ফুল), জবা, গোওই ফুল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বিঝু আসলে ‘বিঝুফুল’ এর নাম মুখে মুখে উচ্চারিত হয়, প্রকৃতপক্ষে নির্দিষ্ট কোন ফুলকে আধিবাসীরা বিঝুফুল বলে না;

 

কেননা, একেক জায়গায় একেক রকম বলে জানে। অনেকে ভেক-ফুলকে বিঝুফুল বলে, অনেকে ভাতঝরা ফুলকে ‘বিঝুফুল’ বলে, আবার অনেকে ছোট ছোট সাদা রঙের সুগন্ধিযুক্ত একপ্রকার ফুলকে বিঝুফুল বলে। একইভাবে বিঝুর সময় আগত অতিথি পাখিকেদের বিঝুপেক বলা হয়।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।