Wednesday, 4 November 2026
শিরোনাম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি নিজের মোবাইল সিম ছাড়া এনআইডি সংশোধন নয় দেশের বাজারে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি-অটোগ্যাস,কোন সিলিন্ডার কত? করিমগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ৩ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিল শিশু ফারিহ ভালোবেসে বিয়ে, মাদক ছাড়তে বলায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী বিএসএফ সদস্যদের রাস্তায় ফেলে পেটাল গ্রামবাসী, আহত ৩ সেই শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালেন আন্দোলনকারীরা ইসলামি বক্তা ডা.জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া
জেলার খবর

সন্তানদের বিরোধ : ৪০ ঘণ্টা পর বাবার মরদেহ দাফন

• • পঠিত 12 বার
শেয়ার করুন:
সন্তানদের বিরোধ : ৪০ ঘণ্টা পর বাবার মরদেহ দাফন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বাবার মৃত্যুর পর উঠানে মরদেহ ফেলে রেখে টাকা নিয়ে সন্তানদের বিরোধের ঘটনায় সেই মনির আহমদের (৬৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) মৃত্যুর প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর সকাল দশটায় কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান গ্রামের দিঘীর পাড় এলাকায় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর সাথে গতকাল রোববার বিকেলে বাবার মরদেহ উঠানে ফেলে রেখে তার অবসরের পর পাওয়া ব্যাংক জমা ৫০ লক্ষ টাকা ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ৫ সন্তান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। সেদিন তারা বাবার মরদেহ একটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে ফেলে রেখে বিবাধে লিপ্ত হয়ে পড়েন।

এমনকি বাবার দাফনে বিলম্ব হওয়া নিয়েও সন্তানরা ভ্রুক্ষেপ করেননি। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয়রা পুলিশ ও চেয়ারম্যানকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্তানদের নিয়ে বৈঠকে বসেন থানার ওসি দুলাল মাহমুদ ও ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম। এতে মরদেহ দাফনে প্রায় ৪০ ঘণ্টা বিলম্ব হয়।

বৈঠকে জমা ৫০ লাখ টাকা থেকে চিকিৎসা খরচ বাদ দিয়ে বাকি টাকা সন্তানদের সবার মাঝে সমহারে বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর আজ সোমবার সকাল দশটায় মনির আহমদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মৃত মনির আহমদ পদ্মা অয়েলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওইদিন রাত এগারোটায় তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে তার মেয়ে বেবি আক্তারের সঙ্গে ভাইদের ঝগড়া শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনির আহমদের সংসারে স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে আছেন। তিনি পদ্মা অয়েলের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর ৫০ লাখ টাকা পেনশন পান। আর সে টাকা তিনি তার ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখেন। তার বড় ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলমের (৪০) অভিযোগ, তাদের বোন বেবি আক্তার কাউকে না জানিয়ে ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা তুলে নেয়। তার ছোট ভাই আলমগীর সৌদি আরবে থাকেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়ে বেবি আক্তার বলেন, বাবার শেষ বয়সে আমরা সেবা-যত্ন করেছি। আমরা বাবার টাকা নিইনি।

ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, এই ঘটনায় আমরা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সন্তানদের নিয়ে বৈঠক করি। বৈঠকে মনির আহমদের অসুস্থতার কারণে যে টাকা খরচ হয়েছে সেগুলো বাদ দিয়ে বর্তমানে তার একাউন্টে যে টাকা আছে সেগুলো তার সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মরদেহ দাফন করা হয়। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর দাফন করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।