Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

র‌্যাগিংকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চায় ছাত্রলীগ, উধাও অভিযুক্তরা

admin • 14 Feb 2024, 11:13 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
র‌্যাগিংকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চায় ছাত্রলীগ, উধাও অভিযুক্তরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইবি:

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হলের গণরুমে এক নবীন ছাত্রকে র‌্যাগিং ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি হলের ১৩৬ নং কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে আলাদা দু'টি তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দুই দফায় ভুক্তভোগী-অভিযুক্তদের নিয়ে মীমাংসা বৈঠক করা হয়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। বিজ্ঞপ্তিতে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। তবে দলীয়ভাবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংগঠনটি। এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর হল থেকে লাপাত্তা রয়েছেন অভিযুক্তরা।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত ও সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি লালন শাহ হলে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীই তার সিনিয়র দ্বারা মানসিক বা শারীরিক হেনস্তার শিকার হোক ইবি শাখা ছাত্রলীগ তা প্রত্যাশা করে না। অপরাধীর কোনো সাংগঠনিক পরিচয় নাই, অপরাধীর সবচেয়ে বড় পরিচয় সে একজন অপরাধী। ইবি শাখা ছাত্রলীগ কখনো কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উক্ত ঘটনায় অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হোক।

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে (গণরুম) নবীন ছাত্রকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠে। ভুক্তভোগী আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওইদিন রাতে ভুক্তভোগীকে ডাকেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাবর্ষের মুদাচ্ছির খান কাফী ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ সাগর। রাত সাড়ে ১২ টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় ভুক্তভোগীর উপর র‌্যাগিং ও নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠে।

এসময় ভুক্তভোগীকে উলঙ্গ করে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা, বারংবার রড দিয়ে আঘাত, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নাকে খত দেয়ানো হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। অভিযুক্ত সবাই শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। এদিকে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগী-অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকদফায় বসেন হলের ছাত্রলীগকর্মীরা। এদিকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘটনার বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত আবেদন দেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। চাপে পড়ে ভু্ক্তভোগী এই আবেদন দেন বলে জানায় সূত্র। লিখিত আবেদনে অভিযুক্তরা ক্ষমা চেয়েছে এবং সিনিয়র ভাইয়েরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্র।

এদিকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার পৃথক দুইটি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ।

হল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, অভিযুক্তদের সাথে কথা বলতে পারিনি, ভুক্তভোগীর সাথে কথা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী বলেছে, ‘আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না, আমি মানষিকভাবে খুব বিপর্যস্ত। আর আমি ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছিনা।’ আমরা অন্যান্য সকলের কাছে তথ্য চেয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. দেবশীষ শর্মা বলেন, আমি এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত ডকুমেন্টস পাইনি। নির্দেশনা পেলে শনিবার কাজ শুরু করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স। কোন র‌্যাগিংয়ের বিষয়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।