বঙ্গবাজারের আগুনের পরে রাজধানীতে গত দুই সপ্তাহে হালনাগাদ করতে গিয়ে দেখা গেছে ৯টি মার্কেট অতিঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ১৪টি ভবন মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৫টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক অপারেশন লে. কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবাজারের আগুনের ঘটনা আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আমাদের আরো সময় লাগবে। তাই আমরা সময় চেয়েছি। এই আগুন লাগার কারণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত আগুনের সঙ্গে নাশকতার কোনো সম্পর্ক আমরা পাইনি।
রোববার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ‘রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট-শপিংমলে অগ্নি ঝুঁকি নিরসন ও অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, নিউ মার্কেটের আগুন কেনো লেগেছে তা এখনও বলা যাবে না। আমাদের তদন্ত করে দেখতে হবে। এখানে নাশকতার কিছু আছে কিনা তা দেখা খুব দরকার। তাই আমরা তদন্ত করে দেখতে চাই।
লে. কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রাজানীতে আমরা ভবনের হালনাগাদ করেছি। এই হালনাগাদে ৫৮টি বাড়ি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ভবন, মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ পেয়েছি। এই হালনাগাদ গত দুই সপ্তাহে পেয়েছি। এসব ভবনের মধ্যে ৯টি মার্কেট সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার দায়িত্ব কার এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব। সেটা বের করে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সিটি করপোরেশনকে চিঠির মাধ্যমে জানাই। তালিকাটিও আমরা চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করি। পরবর্তী কার্যক্রম আমাদের না। এই দায়িত্ব যাদের নগর নিয়ে কাজ করার কথা তাদের। মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। কারো সঙ্গে শক্ত ভাবে কথা সিভিল ডিফেন্স বলে না।
তিনি বলেন, কোনো ভাবন ভেঙে ফেলার দায়িত্ব আমাদের নেই। আমাদের কাজ শুধু নির্দিষ্ট তালিকা করে দেয়া। ভাঙার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শহর নিয়ে যারা কাজ করে তাদের দায়িত্ব ভবনগুলো ভাঙার। আমরা কারো সঙ্গেই জোর দিয়ে কথা বলতে পারি না।
এই কর্মকর্তা বলেন, আগুন লাগার অনেক কারণ হতে পারে। সেগুলো আমরা হয়তো সহজেই পাই না। কিন্তু সর্বশেষ তদন্ত করলে এগুলোর একটি কারণ পাওয়া যায়। বঙ্গবাজার ও নিউমার্কেটের আগুনের ঘটনায় তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, রাজধানীতে পানির সংকট রয়েছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাদের কাজ এই খাল, পুকুরগুলোকে সংরক্ষণ করা। আমাদের পানির সমস্যা হয়। ফায়ার হাইড্রেন্ট না থাকাও এক ধরনের সমস্যা। যার কারনে আমাদের আগুন নেভাতে সমস্যা হয়। উৎসুক জনতাও আগুন নিয়ন্ত্রণে এক ধরনের বাঁধার সৃষ্টি করে।
বঙ্গবাজার ও নিউ সুপার মার্কেটের আগুনের ঘটনায় তদন্তে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বঙ্গবাজারে আগুনের ঘটনায় কোনো ধরনের নাশকতার প্রমাণ পাইনি। তারপরও আমাদের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আরো তদন্ত করলে বোঝা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গেছে তাতে আগুনের ঘটনায় কোনো নাশকতা পাওয়া যায়নি। নিউ সুপার মার্কেটে আগুনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
মিরর/ হিমেল





