Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

ভারত সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

admin • 10 Sep 2024, 03:29 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
ভারত সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

স্বর্ণা দাস ও শ্রী জয়ন্ত হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়(রাবি) প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি করেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ ১০ই সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে জড়ো হতে থাকে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দীন আম্মার বলেন,আমাদের এতদিন বুঝানো হয়েছিল তারা বন্ধু রাষ্ট্র।তাদেরকে আমরা হাজার হাজার টন ইলিশ পাঠাবো,আর তারা উপহারস্বরুপ আমাদেরকে আবরার ফাহাদ উপহার দিয়েছে ,তারা আমাদের স্বর্না দাস ও জয়ন্ত কে উপহার দিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই ভারত হোক বা অন্য দেশ হোক, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বন্ধুত্ব আমরা চাই না, হাসিনা টু মোদি বন্ধু্ত্ব আমরা চাই না।

 

বন্ধুত্ব হোক বাংলাদেশ টু ভারত, বন্ধুত্ব হোক বাংলাদেশ টু চীন,বন্ধুত্ব হোক বাংলাদেশ টু নেপাল।কোন ব্যক্তিকেন্দ্রিক বন্ধুত্ব আর চলবে না।যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বন্ধুত্ব থাকে ,তোমার বাবার থেকে পাওয়া বন্ধুত্ব থাকে তাহলে সেটা তাদের বাসায় গিয়ে যদি করতে পারো করো,রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের বন্ধুত্ব আমরা মেনে নেবো না এবং ভারতের যে দালাল, ভারতের দোসর এই মোদীবাহিনী দের স্পষ্টবার্তা দিয়ে দিচ্ছি এই যে স্বাধীনতা পরবর্তী স্বর্ণা দাস ও শ্রী জয়ন্ত কে হত্যা করা হলো যারা আপনারা বাংলাদেশ ও ভারতের সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা বলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ে কথা বলেন তারা এখন কোথায়।

 

এখন তাদের মুখ বন্ধ কেন।স্বর্না দাস, শ্রী জয়ন্ত কি সংখ্যালঘু ছিলেন না।এর দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায় এই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান কে বিতকির্ত করার জন্য আওয়ামী মিডিয়া সেল,সুশীল সমাজের পরিচয়ধারী কিছু দালালেরা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

 

উক্ত মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদউদ্দীন বলেন,আাজকে আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সকল শিক্ষার্থীকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটিপ্রতিবাদ মিছিল আয়োজন করার জন্য।আমি শুরুতেই তোমাদের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে তোমরা "ঢাকা না দিল্লী" এই স্লোগানটি দিবা না। কারণ আমরা আমাদের রাজধানী কে দিল্লীর সাথে কম্পেয়ার করতে চায় না। ঢাকা ইজ ঢাকা, দিল্লি ইজ দিল্লি।আমরা আমাদের এই রাজধানী টি দীর্ঘ সংগ্রামের পর পেয়েছি।তাই আমি শুরুতেই তোমাদের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই তোমরা এটিকে দিল্লির সাথে কম্পেয়ার করবে না। দিল্লি ইজ নাথিং।

 

আজকে ২৪ এ এসে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের দেশের ছাত্ররা নিজেদের বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। আজকে আমরা দেখছি আমাদের বর্ডারে নিরিহ মানুষের কিলিং হচ্ছে। আজকে আমাদের দেশ আর সেই পর্যায়ে নেই যে আমরা ভারতের অবিচার মুখ বুঝে সহ্য করব। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

 

রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের এই হত্যার বিরুদ্ধে যে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে আমি মনে করি এটা যথেষ্ট নয় এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। বাংলাদেশের যে পররাষ্ট্রনীতির বন্ধুত্ব সেটা দেশ টু দেশের সাথে,ব্যক্তি টু ব্যক্তির সাথে নয়। বন্ধুত্ব হবে জনগণের সাথে জনগণের।আমরা দেখেছি উজানে ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে বৃষ্টির সময় আমাদের বন্যার পানিতে ভাসিয়ে দেয়।আবার শুষ্ক মৌসুমে আমাদের পানি না দিয়ে মরুভূমি করে দেয়।

 

এটা কোন ভাল বন্ধুর নমুনা নয়। আপনারা এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা হারিয়েছেন,নেপাল হারিয়েছেন,মালদ্বীপ হারিয়েছেন।এখন যদি আপনারা বাংলাদেশের সাথেও শত্রুতা করেন। তাহলে কিন্তু আপনারা পৃথিবীর বুকে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেন না। এই বাংলাদেশ এখন আর ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনাধীন নয়,এই বাংলাদেশ পূর্বের বাংলাদেশ নয়।

 

এটি নতুন বাংলাদেশ এবং এদেশের জনগণ জানে কিভাবে বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হয়। তাই আমি ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করব। আপনারা বর্ডারে কিলিং বন্ধ করুন। নাহলে এর পরিণাম ভালো হবে না।

  মিরর/মুনান 
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।