সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক বিভ্রান্তিকর দাবি, ভারতে স্কুলপড়ুয়া মুসলিম মেয়েদের ‘ব্লাড ক্যান্সারের টিকা’ নামে এমন এক ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে, যা নাকি ভবিষ্যতে তাদের সন্তান ধারণে অক্ষম করে তুলবে।
বিষয়টি নিয়ে অনেকে আতঙ্কিত হলেও, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা গুজব বলে জানিয়েছেন।
বিভিন্ন ফেসবুক ও এক্স পোস্টে বলা হচ্ছে, ওই টিকা আসলে মুসলিম মেয়েদের বন্ধ্যা বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, যে টিকাটি দেওয়া হচ্ছে সেটি হলো HPV (Human Papillomavirus) ভ্যাকসিন, যা মূলত গর্ভাশয়ের মুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, HPV টিকা কোনোভাবেই রক্ত ক্যান্সারের প্রতিষেধক নয় এবং এটি বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে না। বরং বিশ্বব্যাপী এটি মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও এই ভ্যাকসিনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করেছে এবং কিশোর বয়সী মেয়েদের এটি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. অনুরাধা শর্মা বলেন, HPV ভ্যাকসিন মূলত ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের দেওয়া হয়, যাতে তারা পরবর্তী জীবনে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত থাকে। এই টিকা বন্ধ্যাত্ব ঘটায়, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কখনও পাওয়া যায়নি।
ভারতের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিভাজন ও ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের গুজব টিকা গ্রহণে অনীহা তৈরি করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।





