Wednesday, 7 October 2026
শিরোনাম
কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা: হানিফসহ ৪ জনের মামলার রায় যেকোনো দিন বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ জসীম পল্লী মেলা চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত পূজামণ্ডপে মদপান করে মাতলামি করলে ঘাড় ধরে নিয়ে আসব: পুলিশ সুপার হকার উচ্ছেদ করে ফুটপাতে বৃক্ষরোপণ, বদলে গেল মিরপুর-১০ এর চিত্র গাজীপুরে ধর্ষণের পর রক্তক্ষরণে প্রেমিকার মৃত্যু, প্রেমিক গ্রেপ্তার সৌদি আরবে স্ত্রী-সন্তান নিতে পারবেন প্রবাসীরা স্ত্রী চাইলে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে বকেয়া দেনমোহর: হাইকোর্টের রায় টিউমার সন্দেহে পরীক্ষার পর জানা গেল ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিশু, পলাতক নানা
সারা দেশ

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

• • পঠিত 28 বার
শেয়ার করুন:
বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ। ছবি সংগৃহিত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে প্রাণ হারান তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৎকালীন কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে দেয়া আবরারের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসে।

 

মৃত্যুর পর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও, ছেলে হত্যায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এখনো শোকেচে সাজানো মোবাইল, ল্যাপটপসহ ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিসপত্র। আগের মতই ঘরে রয়েছে বিছানা ও পড়ার টেবিল। শুধু নেই আবরার ফাহাদ। এর মধ্যে কেটে গেল ৭টি বছর। ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আর হাজারো স্মৃতি আঁকড়ে ধরে কোনো রকম বেঁচে আছেন মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা মনে হলে শিউরে ওঠেন প্রতি মুহূর্ত।

 

মৃত্যুর পর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হত্যার বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। রয়েছে সন্তানের হত্যায় জড়িতদের পলায়নের আক্ষেপও। যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছেন। তার সেই স্বপ্নের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনসহ দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বুলু।

 

এদিকে নাতি হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন ১০৫ বছর বয়সি দাদা আব্দুল গফুর। বেঁচে থাকতে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের রায় কার্যকর দেখে যেতে চান তিনি।

 

বিচার কোন পর্যায়ে

আবরার হত্যা মামলার বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।

 

দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। অর্থাৎ ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।

 

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ অবশ্য নতুন করে আপিল করেনি। কারণ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখেছেন।

 

হাইকোর্টের রায়ের পর মামলাটি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। কিন্তু সেখানে এখনও মূল আপিলের শুনানি শুরু হয়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠেনি।

 

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন তিনজন। স্বজন ও স্থানীয়দের ধারণা, এই তিনজন পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।