মুন্সীগঞ্জে এক কাজিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ওই নেতা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত নেতা রাজীব হোসেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর ধরে মুন্সীগঞ্জের কাটাখালী এলাকায় কাজী হিসেবে বিয়ে পড়ানো ও নিবন্ধনের কাজ করে আসছেন দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা মো. হাবিবুর রহমান।
রোববার দুপুর ২টার দিকে কাটাখালী এলাকায় নিজ বাসায় ছিলেন হাবিবুর রহমান। এ সময় রাজীব, স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় গিয়ে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কাজী অফিসে এবং পরে জোরপূর্বক মুক্তারপুরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের অফিসে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন। হাবিবুর রহমান ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন।
এরপর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা না দিলে তার কাজীর লাইসেন্স বাতিল এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে নিজের প্রাণ রক্ষায় টাকা দিতে রাজি হন হাবিবুর রহমান। এরপর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাবের ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে অভিযুক্তদের দেন। এ সময় তার স্ত্রী নাসিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় রাজীব, স্বপন, কাটাখালী এলাকার সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন হাবিবুর রহমান।
সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে- এমন ভয়ও দেখানো হয়।
তবে নাহিদ কারও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলতে চান না। তার দাবি, বাবাকে অপহরণ করে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দুপুরে থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।





