বনজঙ্গলের জগতে মৃত্যু প্রায়ই আসে নির্মমভাবে। কিন্তু সুদূর ক্রিটাশাস যুগের শেষ দিকে একটি ছোট পাখির মতো ডাইনোসরের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো ছিল তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ। সে শরীরটা গুটিশুটি মেরে ঘুমানোর জন্য শুয়েছিল। আর কখনো সেই ঘুম ভাঙেনি।
আলভারেজসোরিড প্রজাতির ডাইনোসরটির জীবাশ্মে পরিণত কঙ্কালের ভঙ্গিমা থেকে বিজ্ঞানীরা ওপরের ব্যাখ্যাটাই দিয়েছেন। প্রাণীটির লম্বা গলাটি ছিল ডানদিকে অনেকটা ঘুরিয়ে শরীরের পাশে রাখা। মাথাটি ছিল ডান হাঁটুর ওপরে আলগোছে পড়ে। লেজের বেশিরভাগটাই শরীরের বাঁ পাশে বাঁকিয়ে রাখা ছিল।
পেছনের পাগুলো ছিল শরীরের নিচে ভাঁজ করা। আরামদায়ক ভঙ্গিটি বিশ্রামে থাকা আধুনিক পাখিদের মতোই। এটি ইঙ্গিত দেয়, ওই ডাইনোসরগুলো কেবল দেখতেই পাখির মতো ছিল না, তাদের আচরণও ছিল অনেকটা পাখির মতো। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিতে মাটি খুঁড়ে এই ডাইনোসরের খুলি এবং প্রায় সম্পূর্ণ কঙ্কাল পেয়েছেন।
কঙ্কালটির বেশির ভাগ হাড় ছিল প্রাণীটির মৃত্যুর সময়ের ভঙ্গিতে সাজানো। প্লসওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে এ কথা। বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন, এর মাধ্যমে পাখির সঙ্গে ডাইনোসরের আরো একটি সম্ভাব্য মিল পাওয়া গেল। আলভারেজসোরিডস ডাইনোসররা ম্যানিরাপটোরান নামে একটি বৃহত্তর ডাইনোসর গোষ্ঠীর অংশ। এদের মধ্যে ছিল পাখি এবং পাখির মতো ডাইনোসররা।
অতীতে মঙ্গোলিয়ায় পাওয়া আরো দুটি ডাইনোসরের জীবাশ্মে এই ছোট আলভারেজসোরিডসের পাখির মতো ভঙ্গিটি দেখা গেছে।
সূত্র : সিএনএন





