পঙ্গু হলে ফিকে হয় জীবনের সব আশা। ইচ্ছেমতো দাঁড়ানো, হাঁটা যেন পরিণত হয় স্বপ্নে। তবে পঙ্গুদের ফের দাঁড়ানো ও হাঁটার সূত্র আবিষ্কারের দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।
সাইন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পরিচালিত একটি গবেষণায় এক ধরনের নিউরন চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত নিউরন মেরুদণ্ড দ্বারা সক্রিয় এবং পুনর্নিমাণ হয়। এতে পঙ্গু লোক দাঁড়াতে, হাঁটতে এবং পেশিকে সবল করতে পারবে।
২০২২ সালের ৯ নভেম্বর গবেষণাপত্রটি ন্যাচার ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা হয়েছে। নিউরনের আবিষ্কার নয়জন রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল। এতে দারুণ সাফল্য মিলেছে।
সুইজারল্যান্ডের রিসার্চ গ্রুপ নিউরোরেস্টোরের গবেষকরা গবেষণাটি সম্পাদন করেন। তারা থেরাপি দিয়ে আসল কোষ শনাক্ত করতে প্রথম ধাপে ইঁদুর ব্যবহার করেছেন।
পরবর্তীতে সাইন্স অ্যালার্ট জানায়, স্নায়ু কোষগুলো আমাদের মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সুসমন্বিতভাবে চলতে দেখা গেছে। আমাদের মেরুদণ্ডের আঘাত মস্তিষ্ক থেকে সংকতে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং আমাদের হাঁটা-চলা রুদ্ধ করতে পারে।
ন্যাচার ম্যাগাজিন অনুযায়ী, মেরুদণ্ডের একটি আঘাত মস্তিষ্ক ও ব্রেনস্টিম থেকে কটিদেশীয় মেরুদণ্ডে প্রজেক্টের পথকে বাধা দেয়, যা পঙ্গুত্বের দিকে পরিচালিত করে।
এ গবেষণা আরো জানায় যে, ককদেশীয় মেরুদণ্ডের মধ্যে সুসমন্বিতভাবে চলাচলরত নিউরন বসবাস করে থাকে। হাঁটার জন্য নির্দিষ্ট পথে নির্দেশ প্রদান করে মস্তিষ্ক, যা নিউরনগুলো সক্রিয় করতে ব্রেনস্টেম থেকে জল নিঃসরণ করে থাকে।
গুরুতর একটি মেরুদণ্ডের আঘাত চমৎকার সংগঠিত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চুরমার করে থাকে। কটিদেশীয় মেরুদণ্ডে অবস্থিত নিউরনগুলো সরাসরি আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তবে প্রয়োজনীয় সুপ্রাস্পাইনালের অবক্ষয়ের নির্দেশ অকার্যকর করে থাকে। ফলশ্রুতিতে একেবারে পঙ্গু হতে হয়।





