জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহীউদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ মে রাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে ফাঁকা স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ধারাবাহিকতায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সভায় নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত মোকাবিলায় একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং জরুরি সহায়তার জন্য হটলাইন নম্বর চালু করা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন ও প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। প্রবেশের সময় বহিরাগতদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও প্রবেশের কারণ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও পাস ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র সরবরাহ এবং নিরাপত্তা শাখায় তাদের তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের দোকান মালিক ও কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং তথ্য সংগ্রহ করে একটি ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, প্রতিটি গেটে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দিনে প্রতি শিফটে কমপক্ষে ৩ জন এবং রাতে ২ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত প্রাচীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত এবং অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পুরোনো আলবেরুনী হলের (এক্সটেনশন) ভবনটি অচিরেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।
সোহাগ/মিরর





