Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

জাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা: বারংবার পেছানোর দায় কার?

Sohag Shah • 27 Jun 2025, 05:29 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
জাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা: বারংবার পেছানোর দায় কার?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ আবারও পিছিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই হামলায় জড়িত ও মদদদাতা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিচারকার্য পূর্বনির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী সম্পন্ন করতে না পারায় নির্বাচনের তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা সাতটা থেকে সভা শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রায় দশ ঘণ্টা মিটিং শেষে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচনের নতুন সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান।

জাকসু নির্বাচনের দিনক্ষণ বারংবার পেছানোতে দায়ভার কার এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক মিরর অফ বাংলাদেশকে বলেন, আমরা মনে করছি বারংবার জাকসু নির্বাচনের তারিখ পেছানোতে দায়ী আসলে পুরো সিস্টেম। এটি পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যার্থতাকে তুলে ধরছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে আসলে জাকসু সংস্কারের সময়ই আমাদের বেশকিছু ঘাটতি রয়ে গিয়েছে এবং আমি মনে করি এই জাকসু সংস্কারের পেছনে বিশেষ একটি মহলকে সুবিধা দিতে সংস্কারের কাজ যেনোতেনোভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এখানে আসলে কোনো বিষয়েই আমি স্বচ্ছতা দেখতে পারছি না। জাকসু ভোটার তালিকায় কোনো স্বচ্ছতা নেই, জাকসু আয়োজনে পুরো সিস্টেমের কোনো স্বচ্ছতা নেই।

জাকসু নির্বাচনের দিনক্ষণ পেছানোর দায়ভার কার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল মিরর অফ বাংলাদেশকে জানান, বারংবার জাকসু নির্বাচনের তারিখ পেছানোতে আসলে স্পষ্টত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতি ও সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে আমি মনে করছি। যখনই জাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসে প্রশাসন তখনই কোনো না কোনোভাবে জুলাই হামলার বিচারকার্য এবং জাকসু নির্বাচনকে মুখোমুখি নিয়ে আসে।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলতে চাই, তাদের উপর যদি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী, মহল থেকে চাপ আসে জাকসু না করার, অথবা যে কোনো কারণ, তা তারা আমাদের সাথে আলোচনা করুক। আমরা বারংবার এই জাকসু নির্বাচন হওয়ার তারিখ ঘোষণার নাটক দেখতে চাই না আর। প্রশাসনকে স্পষ্ট বলবো, আবারও তারা যদি কোনো কূট-কৌশল, অপকৌশল অবলম্বন করে তারিখ পেছানোর নাটক মঞ্চায়িত করতে আসে তবে তা এই প্রশাসনের জন্য সুখকর হবে না। আমরা সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

আলোচ্য প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান মিরর অফ বাংলাদেশকে বলেন, এই প্রশাসন জাকসু নিয়ে শুরু থেকে তালবাহানা করে আসছে। আমরা শেষ বারের মতো এই প্রশাসনকে সুযোগ দিচ্ছি। নতুন ঘোষিত তারিখের মধ্যে এই প্রশাসন যদি বিচার নিশ্চিত ও জাকসু নির্বাচন করতে না পারে তাহলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দীন আয়ান মিরর অফ বাংলাদেশকে জানান, জাহাঙ্গীরনগরে আসলে কোনোকিছুর তারিখ পিছানোর সংস্কৃতি পূর্ব থেকেই। এই প্রশাসন আসলে বারবার জাকসু আর জুলাই হত্যার বিচারকার্যকে মুখোমুখি করছে। বারবার তারিখ পিছানোতে সম্পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনের বলে আমি মনে করছি।

নতুন ঘোষিত জাকসু নির্বাচনের তারিখ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর আবারও যদি কোনো কারণে পিছিয়ে যায় তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রশাসন যদি আবারও তারিখ পেছানোর নাটক মঞ্চায়িত করে তবে তা এই প্রশাসনের জন্য ভালো হবে না। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ তখন এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাবে এবং আমরা আশা করবো প্রশাসন আমাদের সাথে আর প্রহসন করবে না।

সার্বিক বিষয়ে আলোকপাত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, আমাদের একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আমাদের একই সাথে জুলাই হামলার ঘটনায় জড়িত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিচার করতে হচ্ছে পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ কাঠামোকে পুনরায় সংস্কার করে এটি চালু করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আমার প্রশাসন পুরোপুরি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা চিন্তা করলেই দেখতে পারবে যে আমরা জুলাই পরবর্তীতে কতকিছু করেছি।

তিনি আরও বলেন, এখানে দায়ভার বলতে আসলে পুরো বিষয়টা অনেকটা জটিল হওয়ার কারণে একটু সময় লাগছে শুধু, আর কিছু না। আমরা ইতোমধ্যে ভেবেছিলাম বিচারকার্য শেষ করে নির্বাচন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দিয়ে দিতে পারবো। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা তা করতে না পারলেও আমাদের আর কিছু সময়ের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছি এবং এ অনুযায়ী আগামী এগারো সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমি আশা রাখছি।

উল্লেখ্য, এর আগে ৩১ জুলাই জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নতুন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে জুলাই হামলায় জড়িত ছাত্রলীগের সাময়িক বহিষ্কৃতদের চূড়ান্ত বিচার নিশ্চিত হবে, একই দিনে জাকসুর তফশিল ঘোষিত হবে। ৩১ আগস্ট হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের চূড়ান্ত বিচার নিশ্চিত হবে এবং আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সোহাগ/মিরর

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।