Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

জবিতে সাংবাদিকদের ওপর শিবিরের হামলা, আহত ১২

Inam Ahsan • 05 Mar 2026, 06:01 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
জবিতে সাংবাদিকদের ওপর শিবিরের হামলা, আহত ১২

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের ওপর শিবিরের নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা রয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিবও আহত হন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন— জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মিলন হোসেন, জনকণ্ঠের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দৈনিক যায়যায়দিনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মিজান উদ্দিন মাসুদ, প্রথম আলোর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, দৈনিক বর্তমানের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম, দৈনিক তরুণকণ্ঠের প্রতিনিধি আবিদ হাসান বাঁধন, ব্রেকিং নিউজ ডটকমের প্রতিনিধি মো. ইয়াসিন সাইফ, বাংলাদেশ গার্ডিয়ানের হাবিবুর রহমান, রূপালী বাংলাদেশের নাফিজ উদ্দিন এবং রেডিও টুডের আবুল হাসনাত।

 

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আসন্ন নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে তারা সমিতির কার্যালয়ে গেলে সেখানে শিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা কার্যালয় দখল করে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছিলেন।সাংবাদিকরা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণ জানতে চাইলে শিবিরপন্থী জকসু নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনুসারীরা অতর্কিতভাবে লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।আহতরা আরও অভিযোগ করেন, সাংবাদিক সমিতির বিষয়টি সম্পূর্ণ পেশাগত সংগঠনের হলেও সেখানে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা কেন থাকবে তা তারা বুঝতে পারছেন না। তাদের দাবি, সম্পূরক বৃত্তি ইস্যুতে জকসুর ব্যর্থতা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জেরে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

তারা আরও জানান, গত ৫ আগস্টের পর শিবিরপন্থী সাবেক ও বর্তমান নেতারা নিজেদের উদ্যোগে সমিতির নির্বাচন আয়োজন করেন। সেই নির্বাচনে তাদের মতাদর্শের বাইরে থাকা সাংবাদিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ৯টি পদে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করে সমিতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হয়।

আহত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ বলেন, “সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হচ্ছিল। আমরা এর কারণ জানতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল হামলার নেতৃত্ব দেন।

 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মো. মিলন হোসেন বলেন, “ভোটার তালিকায় আমাদের নাম না রাখার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা লাঠি ও স্ট্যাম্প দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। সমিতির কার্যালয়ে আগে থেকেই লাঠি ও স্ট্যাম্প মজুত রাখা ছিল। হামলায় আমি গুরুতরভাবে আহত হই। বুকে আঘাত লাগায় আমার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।”ঘটনার পর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।