হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আইসক্রিমের ফ্রিজার ট্রাকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ সংরক্ষণ করছেন। কারণ দেহগুলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ এবং কবরস্থানেও জায়গার অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। চলমান যুদ্ধে ইতিমধ্যে দুই হাজার ৪৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েলে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এরপর প্রতিশোধমূলক আঘাত করতে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে।
আল-আকসা হাসপাতালের ডা. ইয়াসের আলি বলেন, ‘হাসপাতালের মর্গে মাত্র ১০টি লাশ জায়গা হয়। তাই আমরা বিপুলসংখ্যক নিহতকে সংরক্ষণ করার জন্য আইসক্রিম কারখানা থেকে ফ্রিজার এনেছি।
’ ফ্রিজার ট্রাকগুলো সাধারণত সুপারমার্কেটে সরবরাহ করার কাজে ব্যবহৃত হয়৷ এগুলোতে আইসক্রিম খাওয়া হাসিখুশি শিশুদের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। কিন্তু এখন গাড়িগুলো হামাস ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী যুদ্ধের শিকারদের জন্য অস্থায়ী মর্গ হয়ে উঠেছে।
আলি ফ্রিজারের দরজা খুলতেই ভেতরে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লাশ দেখা যায়। তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহৃত ফ্রিজারেও আর জায়গা ফাঁকা নেই।
কিছু লাশ তাঁবুতেও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গাজা উপত্যকা সংকটে রয়েছে। এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে আমরা মৃতদের কবরও দিতে পারব না। কবরস্থানগুলো ইতিমধ্যে পূর্ণ। মৃতদের কবর দেওয়ার জন্য আমাদের নতুন জায়গা প্রয়োজন।
’ সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান সালামা মারুফ জানান, গাজা সিটিতেও কর্তৃপক্ষ গণকবর প্রস্তুত করছে। হাসপাতালের মর্গে রাখা যেসব মরদেহ স্বজনরা দাফন করতে আসেনি, সেগুলোর দেহে ইতিমধ্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নিহতের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। তাই ১০০ মৃতদেহ দাফনের জন্য গণকবর প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালায়। ইসরায়েলও গাজায় ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। এর পরই ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ইতিমধ্যে যুদ্ধ অষ্টম দিনের মতো চলছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি পক্ষের এক হাজার ৪০০ জন এবং ফিলিস্তিনি পক্ষের প্রায় আড়ায় হাজার জন নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে ইসরায়েল থেকে শতাধিক মানুষকে জিম্মি করেছে হামাস।
সূত্র : রয়টার্স





