Thursday, 5 November 2026
শিরোনাম
সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী কলেজের শ্রেনীকক্ষে তালা,মাঠজুড়ে পশুর হাট ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি অধ্যাপকের প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ,সত্যতা কতটা? স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগ, কুয়েতে ৫ বাংলাদেশী গ্রেপ্তার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ, সুনামগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১৫ ১৭৪ ফ্লাইট বাতিল, শনিবার থেকে চলবে দাম্মাম ফ্লাইট চুরি ঠেকাতে ২০০ কেজির ওয়েস্ট বিন, দক্ষিণ সিটিতে বসানো হলো ৬০০টি নারী গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ডাচ-বাংলার কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা ইতিহাস গড়ে প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর আব্দুল আল-সায়িদ
জেলার খবর

কুষ্টিয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট

• • পঠিত 9 বার
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট

কুষ্টিয়া সরকারী কলজের বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটদের অংশ গ্রহনের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

রবিবার বেলা ১১টায় কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মো: রুহুল আমীন এর সভাপতিত্বে শিক্ষক মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভায় শহরের ব্যস্ততম সড়ক থানামোড় থেকে হাসপাতাল মোড় এবং কলেজ মোড় থেকে কাটায়খানা মোড় পর্যন্ত অধিক ব্যস্ততম এসব সড়কে প্রতিদিন দেড় ঘন্টা সময় ধরে প্রতীকী টাফিকিং করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে এই কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

এসময় বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ও কলেজের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে কলেজের সম্মুখস্থ সড়কে যানজটমুক্ত করতে র‌্যালী করেন।

 

কলেজের বিএনসিসি প্রধান ড. নবীনুর রহমান খানের নেতৃত্বে বের হওয়া র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন- কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আনছার হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল কুদ্দুস খান, রোভার প্রধান ড. মো: শামছুল ইকবাল খান প্রমুখ।

 

মতবিনিময় কালে কলেজে সদ্য যোগদান করা অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মো: রুহুল আমীন কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সেবাই কিভাবে কাজ করা যায় তার একটা রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহাণ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং সম্প্রতি ছাত্রজনতার গণ অভ্যুত্থানে শহীদদেরকে শ্রদ্ধাভবে স্মরণ ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এ আত্মত্যাগের পথেই দেশ আজ নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্ববৃহৎ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৭ এ প্রতিষ্ঠিত কলেজটি আমাদের সকলের গর্বের ও অহংকারের। আমরা সবাই এ শিক্ষাঙ্গনে পড়াশুনা করেছি-আমাদের সন্তানেরা আজ এখানে পড়ছে। প্রায় ২১,০০০ শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক স্তর থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে এখানে শিক্ষা গ্রহণ করছে। কুষ্টিয়া শহরের অন্যান্য কলেজ গুলোর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয় কলেজটি।

 

কিন্তু সময়ে ধীরে প্রতিষ্ঠানটিতে নানামুখী জঞ্জাল জমা হয়েছে। বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তার বিভিন্ন সেক্টরে বৈষম্য দূর করার যে প্রচেষ্টা চলছে, দেশের শিক্ষাঙ্গনেও সে প্রচেষ্টা লক্ষনীয়। তিনি এই কলেজের ছাত্র, এক সময়ের শিক্ষক এবং এ মাটির সন্তান, গত ২৫/০৯/২০২৪ তারিখে অধ্যক্ষ হিসেবে এখানে যোগদান করে দিবারাত্র পরিশ্রম করে এ প্রতিষ্ঠানের সোনালী অতীত ফিরে আনবার প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি আমার সহকর্মী শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নিয়ে।

 

কলেজের সামনে উত্তর দিকের মীর মোশাররফ হোসেন সড়ক-এ রাস্তায় ফুটপাতসহ রাস্তা দখল করে আছে নানান দোকান পাট। রাস্তায় যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করা হচ্ছে। পৌরসভা অপরিকল্পিত ও অদূরদর্শী অকারনে বড় বড় ভবন, হাসপাতাল, ক্লিনিকের অনুমতি দিয়েছে অথচ তাদের যথেষ্ট পার্কিং নেই।

 

কলেজ মাঠ সংলগ্ন রাস্তাতে অবৈধ ভাবে দোকনপাট বসেছে। এরফলে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৩শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী কলেজে যাতায়াতে চরমভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এমনকি পরীক্ষার দিন ট্রেজারী থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে কলেজে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা ফুটপথের দোকান মালিকদের সরে যেতে অনুরোধ করেছি। প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল দোকান মালিকদেরসহ সংশ্লিষ্ট পৌরকর্তৃপক্ষকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছি। একইসাথে পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে।

   

অনেকে আশার কথা শোনালেও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ এখনও গোচরীভূত হয়নি। সেকারনে কলেজের বিএনসিসি/রোভার ছেলেমেয়েরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রতীকিভাবে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে দেড় ঘন্টা সময়ের জন্য ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য রাস্তায় দাড়াবে।

 

গত ৫ আগষ্ট বিপ্লবের পর থেকে দেশব্যাপী ভেঙ্গে পড়া ট্রাফিকিং ব্যাবস্থায় আমাদের এই ছাত্র সমাজ কিভাবে এ দায়িত্ব পালন করেছে তা দেশবাসী জানে। তাই আজ থেকে আমাদের বোধোদয় হোক যেনো- কলেজ আমাদের, হাসপাতাল আমাদের অন্যান্য দোকানপাট, যানবাহন আমাদের। আমরা সবাই নিয়মমেনে রাস্তায় চলি রাস্তায় কৃত্রিমভাবে যানজট না করি। এ বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যকে রক্ষা করি- আমাদের প্রজন্মকে মানুষ হওয়ার সুযোগ দেই।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।