Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

কুবিতে খিচুড়ি ভোজের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন, সমন্বয়কদের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা

admin • 08 Dec 2024, 05:21 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
কুবিতে খিচুড়ি ভোজের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন, সমন্বয়কদের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও খিচুড়ি ভোজ আয়োজনের টাকার উৎস নিয়ে দুই দিনে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন সমন্বয়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে টাকার উৎস নিয়ে দুই দিনে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সমন্বয়ক জান্নাতুল ইভা।

 

গত ৬ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা খিচুড়ি ভোজ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজনের ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার উৎস জানতে চান। এর জবাবে গতকাল ৭ ডিসেম্বর রাতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন কয়েকজন সমন্বয়ক। তবে সেখানেও টাকার সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন তারা।

 

খিচুড়ি ভোজ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগ আমলের কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়ার কাছে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছেন বলে ৬ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে জানান জান্নাতুল ইভা। তবে ৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তারিকুল ইসলাম ফান্ড রেইজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। ইভা বলেন, "যেহেতু তিনি আমার গ্রামের ও স্কুলের বড় ভাই, তার কাছে আমি আবদার করতেই পারি যে আমাদের ফান্ড ম্যানেজ করে দেন।"

 

টাকার উৎস জানতে চাইলে সমন্বয়কেরা জানান, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা যেহেতু হয়নি, ওই টাকা খরচ হয়নি। আর খিচুড়ি ভোজের হিসাব আছে, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।

 

৬ ডিসেম্বর পুলিশ সুপার খিচুড়ি ভোজে অংশ নিতে আসলে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়কেরা প্রশাসনের কাছে জবাব চান। তবে তারা স্বীকার করেন, পুলিশ সুপারের ক্যাম্পাসে আসার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি।

 

সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, যারা পুলিশ সুপারকে আটকে দিয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের "আদু ভাই" (অর্থাৎ বর্তমান শিক্ষার্থী নয়)। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যারা ৬ ডিসেম্বর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং পুলিশ সুপারকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ থেকে ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রোগ্রাম করলে তাদের জ্বলে কেন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব তারা ভারতের দালাল?" তারা আরও দাবি করেন, একটি পক্ষ তাদের আয়োজন বানচাল করতে চেয়েছে। তবে জানা যায়, টাকার উৎস নিয়ে শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়।

 

পাবেল রানা নামে এক সমন্বয়ক দাবি করেন, "যারা তারিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে, তাদের আমি চিনি না এবং আন্দোলনে তাদের দেখিনি।" তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮ তারিখ ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পর তিনিসহ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনেকে আন্দোলন রেখে বাসায় চলে যান।

 

খিচুড়ি ভোজের টোকেন নিয়েও দুই রকম উত্তর দিয়েছেন সমন্বয়কেরা। এক টোকেনে "বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন" এবং অন্যটিতে "সাধারণ শিক্ষার্থী" উল্লেখ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টোকেনটি "প্রিন্টিং মিস্টেক।" তবে ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাকিব হুসাইন জানান, "টোকেনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র দিয়েছি, যেন সবাই আসতে পারে।"

 
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।