Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
আর্ন্তজাতিক

আশুরার মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা

admin • 28 Jun 2026, 06:14 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
আশুরার মিছিলে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা

মহররমের আশুরা শোভাযাত্রায় ব্যথানাশক ও রোগপ্রতিরোধক ওষুধের নামে বিষাক্ত ওষুধ বিতরণের মাধ্যমে ১৫ হাজার মানুষ হত্যা করতে চেয়েছিলেন ভারতের এক নাগরিক। ভারতের মুম্বাইয়ে আটক ফায়াজ প্রেমজি নামের ওই ব্যক্তি চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য নিজেই পুলিশকে জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দাবি করেছেন যে তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ফায়াজ প্রেমজি বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে বিষ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এজন্য তিনি ৩০ হাজার ক্যাপসুল ও ৫০ কেজি জিংক ফসফাইড (ইঁদুর মারার বিষ) সংগ্রহ করেছিলেন।

গত শুক্রবার আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় ফয়েজ প্রেমজিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কাছে ব্যথানাশক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ হিসেবে এসব বিষাক্ত দ্রব্য বিতরণ করছিলেন।

তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে পুনে থেকে মুম্বাইয়ে এসে ডোংরির একটি হোটেলে অবস্থান নেয় প্রেমজি। সেখানেই সে বিষাক্ত ক্যাপসুল তৈরির পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। তবে একা এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে ক্যাপসুল বিতরণ সম্ভব নয় বুঝতে পেরে সে আরও কয়েকজনের সহায়তা নেয়। তাদের কাছে বিষয়টি একটি ‘পুণ্যের কাজ’ বলে উপস্থাপন করেছিলেন।

এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে সালমান সাইয়েদ ও আলী আব্বাস সাইয়েদ জানান, ক্যাপসুলগুলো যথাক্রমে শিশুদের এবং অন্যদের ভিটামিন বা উপকারী ওষুধ বলে খাওয়ানো হয়েছিল।

তবে তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের সতর্কতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। তারা ক্যাপসুল বিতরণকে সন্দেহজনক মনে করে পুলিশকে খবর দেন। পরে একটি ক্যাপসুল ভেঙে ভেতরে গুঁড়াজাতীয় পদার্থ দেখতে পান।

এরপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ক্যাপসুল না খাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। দ্রুত বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে পুলিশ অভিযুক্তকে তার হোটেল থেকে আটক করে।

এদিকে পুনের কনার্ক নগর এলাকায় অভিযুক্তের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পারিবারিক জীবনে অস্থিরতার পর থেকে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল। তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করেন বলে দাবি তাদের।

তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রেমজির বাবা একটি রং কারখানার মালিক। তার মা ও বোন ইরানে বসবাস করেন। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনি ১৯ বার ইরান ও ইরাক সফর করেছেন। গত বছরও তিনি ওই দুই দেশে কিছু সময় কাজ করেছেন।

ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা বৃহত্তর নেটওয়ার্ক জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।