Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে রাবি শিক্ষিকা সুপ্রিয়া রানী দাস

admin • 07 May 2025, 10:37 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে রাবি শিক্ষিকা সুপ্রিয়া রানী দাস

শিক্ষা ও খেলাধুলা দুই ভিন্ন জগত। তবে এই দুটি অঙ্গনেই সমান দক্ষতায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি।দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসে ভর করে নারীর ক্ষমতায়নের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়েছেন। তিনি আর কেউ নন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুপ্রিয়া রানী দাস। 

 

ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার, আম্পায়ারিং দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে কাজ করছেন ম্যাচ রেফারি হিসেব । আন্তর্জাতিক ম্যাচসহ ২৫ এর অধিক ম্যাচে সফলভাবে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন এই শিক্ষক। শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ছিল প্রবল।

 

অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন তার বাবা, একজন প্রাক্তন ভলিবল খেলোয়াড়। শুধু বাবাই নন পরিবারের অন্য সদস্যরাও উৎসাহ প্রদান করেন।পরিবারে তিনিই প্রথম, যিনি পেশাদার ক্রীড়াক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর অনেকেই তাকে খেলাধুলা বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলেছিলেন।

 

কিন্তু বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরা ম্যামের উৎসাহে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পান তিনি। ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ছিলেন ডানহাতি মিডিয়াম পেসার। খেলেছেন ঢাকা বিভাগ, সিলেট বিভাগ, আবাহনী, মৌলভীবাজার জেলা এবং দীপালি যুব সংঘের হয়ে। ২০১১ সালে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ পেলেও স্নাতকোত্তরের চাপে ক্যাম্পে যোগ দেওয়া হয়নি।

 

২০১৩ সালে রাবিতে শিক্ষকতা শুরু করার পর কিছুটা দূরে সরে যান মূলধারার ক্রিকেট থেকে। তবে ২০২২ সালে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে মাঠে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই রেফারি ও আম্পায়ার হিসেবে নিয়মিত কাজ করছেন।

 

কর্মব্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মধ্যেও কীভাবে এত কিছুর সমন্বয় ঘটান এই প্রশ্নে সুপ্রিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষ করে বিকেলেই ঢাকায় রওনা হই। পরদিন ভোরে ম্যাচ পরিচালনা করি। শনিবার রাতেই আবার রাজশাহী ফিরে পরদিন সকালে ক্লাসে হাজির হই। কঠোর পরিশ্রম আর সুশৃঙ্খল পরিকল্পনার মাধ্যমেই তিনি দুই দায়িত্ব সামলে চলেছেন।বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক রেফারি প্যানেলের সদস্য। ভবিষ্যতে এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্নও রয়েছে তার। তবে তিনি বলেন, এই পথটা অনেক দীর্ঘ। অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা আর পরিশ্রম ছাড়া এখানে পৌঁছানো যায় না।

 

আমি যা করি, মন দিয়ে করি। নারীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং পেশা হিসেবে গ্রহণে উৎসাহ দিতে সুপ্রিয়া বিশ্বাস বলেন, অনেকে মনে করেন, খেলাধুলা মানেই পড়াশোনার ক্ষতি। কিন্তু আমি খেলেছি, পড়াশোনাতেও ভালো করেছি। পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। 

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।