মাদারীপুরে প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে পূর্বের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশের হুমকিতে আদালতে মামলা দায়ের পরের দিন আত্মহত্যা করলেন বাদী হামিদা আক্তার নামের এক গৃহবধূ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ হামিদা আক্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকার হালিম ঢালীর মেয়ে। খবর পেয়ে সদর থানা–পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর আগে শরীয়তপুরের তুলসির চর এলাকার আশরাফ খানের ছেলে শামীম খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম হয়। পরে দুজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। শামীম খানের সঙ্গে হামিদা আক্তারের প্রেম ভেঙে গেলে সিলেটের লিটন হোসেন নামের আরেক তরুণের সঙ্গে হামিদার সম্পর্ক হয়। পরে লিটনকে ভালোবেসে হামিদা বিয়ে করে সংসার করতে শুরু করেন। বিয়ের পরে হামিদার একটি ছেলে সন্তান হয়। যার বয়স ৮ বছর।
হামিদার স্বামী লিটন হোসেন বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী। এই সুযোগে শামীম পুনরায় হামিদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। শামীম বিয়ের পূর্বে হামিদার সঙ্গে সম্পর্কের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সৌদি প্রবাসী লিটনের কাছে পাঠায়। এতে হামিদার সঙ্গে স্বামী লিটনের দাম্পত্য অশান্তি দেখা দেয়। নিরুপায় হয়ে হামিদা গত ১৮ ডিসেম্বর মাদারীপুরের একটি আদালতে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলার পর শামীম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হুমকি দেয় হামিদাকে। এতে ভয়ে হামিদা বিষ পান করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নিহত হামিদার ছোট বোন হালিমা আক্তার বলেন, ‘আমার বোনের সঙ্গে বিয়ের আগে শামীমের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের বিষয় নিয়ে আমার দুলাভাই ও বোনকে নানা ধরনের হুমতি–ধামকি শামীম দিয়ে আসছিল। শামীমের কারণেই আমার বোনকে মরতে হয়েছে। আমরা এই মৃত্যুর বিচার চাই।’
এই বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘নিহত হামিদা আদালতে একটি মামলা দায়ের করার পরের দিনই আত্মহত্যা করেছেন। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে আরও তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’





