Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

৫০ বছর পর রেলওয়ের বকেয়া পরিশোধ করলেন মফিজুল ইসলাম

admin • 10 Apr 2026, 03:28 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
৫০ বছর পর রেলওয়ের বকেয়া পরিশোধ করলেন মফিজুল ইসলাম

বিবেকের দংশন থেকে মুক্তি পেতে দীঘ ৫০ বছর পর রেলওয়ের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে সততার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের মো. মফিজুল ইসলাম। গত ২৮ মার্চ শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে হাজির হয়ে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সরকারি পাওনা পরিশোধ করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ের। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত কিশোর মফিজুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে কাঁঠাল ব্যবসা শুরু করেন। সে সময় শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে কাঁঠাল বোঝাই করে তিনি ঢাকার বিভিন্ন হাটে যেতেন।

যাতায়াত কিংবা মালামাল পরিবহনের জন্য তিনি কখনোই কোনো টিকিট সংগ্রহ করতেন না; বরং দায়িত্বরত রেলওয়ে কর্মচারীদের হাতে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতাম। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর বর্তমানে শ্রীপুর পৌরসভার ফাতেমাতুজ যোহুরা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মফিজুল ইসলাম উপলব্ধি করেন যে, বিনা টিকিটে ভ্রমণ করে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ঋণী রয়েছেন।

 

এই ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে তিনি শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের শরণাপন্ন হন এবং ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একসঙ্গে এত টাকার টিকিট স্টকে না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এক সপ্তাহের অপেক্ষার পর বিশেষ মানি রিসিটের মাধ্যমে তিনি এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

 

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুল রহমান মফিজুল ইসলামের এই মানসিকতায় মুগ্ধতা প্রকাশ করে জানান, রেলওয়েতে বকেয়া পরিশোধের আইনী বিধান রয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের ভুল বুঝতে পেরে এভাবে দায়মুক্ত হওয়া সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মফিজুল ইসলামের এই সততা বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।