Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

হাসপাতাল ঢুকে বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ ১০ জনকে মারধর, আটক ৩

admin • 09 Jun 2025, 11:03 AM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
হাসপাতাল ঢুকে বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ ১০ জনকে মারধর, আটক ৩

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ অন্তত ১০ জনকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের শৈরশই গ্রামে ফুটবল খেলার সময় রাহুল ও সাফোয়ান নামে দুই কিশোরের বল লাগলে একই বাড়ির উদ্দীপন এনজিও কর্মী সোহাগ আলমের এক বছর বয়সী ছেলে আনাছুর রহমান মাথায় আঘাত পায়।

 

শিশুর মা আমেনা আক্তার বিথী এ নিয়ে জবাব চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রাহুল ও সাফোয়ানের পরিবার শিশুটির বাবাকে (সোহাগ) আইনি পদক্ষেপ না নিতে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

 

শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর উত্তেজনা বাড়ে। অভিযুক্ত রাহুল ও সাফোয়ানের স্বজন মাসুদ, কামাল ও তুষার হাসপাতাল চত্বরে যান এবং সোহাগের আত্মীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে তারা শিশুটির ফুফু জান্নাতুল ফেরদাউসের চুল ধরে টেনে বের করার চেষ্টা করেন।

 

এই খবর পৌঁছালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রামগঞ্জের সংগঠক রেদোয়ান সালেহীন নাঈম ও তার কয়েকজন সহকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তখন অভিযুক্তরা ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

 

মারধরের ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন: রেদোয়ান সালেহীন নাঈম, আজিজ শাকিল, সাঈদ আলম শাহীন, জাহীদ হাসান পাবেল, তারেক আজিজ, সায়মন স্যাম, সংবাদকর্মী রায়হানুর রহমানসহ অন্তত ১০ জন। তারা সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

রামগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাসুদ, কামাল ও তুষার নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, “হাসপাতালের ভেতরে এই ধরনের সহিংসতা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। চিকিৎসক ও নার্সরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

 

এদিকে হামলার ঘটনার পর রাতে হাসপাতালে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম। তিনি এ ঘটনাকে “নিকৃষ্ট ও কাপুরুষোচিত” বলে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।”

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।