ফরিদপুরে স্ত্রীর করা পর্নোগ্রাফি মামলায় মীর ইলিয়াস ওরফে সোহেল (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মীর ইলিয়াস ফরিদপুর পৌরসভার ২১নং ওয়ার্ড কাফুরা এলাকার মীর আলমগীরের ছেলে।
তবে এ ঘটনার পর ভিন্ন দাবি করেছেন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবার৷ তাদের অভিযোগ, ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বিয়ে করার পর থেকে হয়রানি করা হচ্ছে। স্ত্রীর পরিবারের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
মামলার বাদী পাশ্ববর্তী গেরদা গ্রামের বাসিন্দা তৌফিক মীরের মেয়ে তমা আক্তার (৩০) তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, আসামি চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বাদীর নিকট ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে৷ এ ঘটনায় ওইদিন সদরপুর থানায় যৌতুক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা তুলে নিতে তাকে চাপ সৃষ্টি সহ দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয় এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মামলা তুলে না নেয়ায় আসামি তার ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ ৩টি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয় এবং সকল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দাবি করা হয়।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন গ্রেপ্তারকৃত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানায়, বাদীর পূর্বে দুটি বিয়ে হয়। এরমধ্যে তার দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে থাকাকালীন বিবাদে জড়িয়ে চলে আসে৷ এরপর ২০২৪ সালে ওই নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মীর ইলিয়াস সোহেল। এক পর্যায়ে তা গড়ায় অনৈতিক সম্পর্কে। সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন ওই নারী নিজেই, যা ভিডিওতে স্পষ্ট। পরে তা অজ্ঞাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ ঘটনার পর প্রথম স্ত্রী ছেড়ে চলে যায়। এর মধ্যে কৌশলে ওই নারীর বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং স্থানীয়ভাবে শালিস মিমাংসা হয়। তখন ওই ভিডিওটি শালিস মীমাংসাকারীদের নিকট হস্তান্তর করেন ওই নারী। এরপর শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৯ মে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে হয়।
এছাড়া ওই কাবিননামায় মুচলেকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়- স্বামী বা স্ত্রী যেই ছেড়ে চলে যাবে তাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। এরপর দীর্ঘ ২ বছর সংসার চলতে থাকে তাদের এবং বিভিন্ন সময় কলহে জড়িয়ে পড়েন। এরমধ্যে গত তিন মাস আগে সদরপুর থানায় একটি যৌতুক মামলা করেন ওই নারী। ওই মামলায় সম্প্রতি জামিন পাওয়ার পরেই ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকির অভিযোগ এনে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় পর্ণগ্রাফি আইনে একটি মামলা করা হয়।
পরিবারের দাবি, ওই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করা হয়েছে এবং অপবাদ দিয়ে কাবিননামায় উল্লেখিত টাকা আদায় করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া তার স্ত্রীর কাছে স্বামীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাসওয়ার্ড রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সোহেলের মা তছিরন বেগম অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় স্বামী থাকতেও আমার ছেলেকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন করে বিয়ে করেছে। ওর কারণে আমার প্রথম বউ ও নাতি চলে গেছে। ৭ মাসের একটি বাচ্চাসহ বিয়ে করে আনতে বাধ্য হয়৷ তারপরও আমরা সব মেনে নিয়েছি কিন্তু বিভিন্ন সময় ওর পরিবার আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছে। বর্তমানে অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেকে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা পাব কোথায়। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাই এবং প্রকৃত দোষীর শাস্তি চাই।
এসব বিষয়ে নিয়ে ওই নারী জানান, যা বলার থানায় বলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা নিয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন৷
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন সরদার জানান, তার স্ত্রী পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা করলে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। মোবাইলটি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে, প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।





