বিশ্বকাপের টিকিট, ভ্রমণ, হোটেল সব মিলিয়ে সমর্থকদের খরচ এমনিতেই আকাশছোঁয়া। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো আরেকটি নতুন খরচ। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় নিজের নাম দেখাতে চাইলে ফিফাকে দিতে হবে ৭৯ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০ হাজার টাকা।
২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে “সুপার সাউটআউট” নামে নতুন একটি সেবা চালু করেছে ফিফা। এই সেবার মাধ্যমে সমর্থকেরা নির্দিষ্ট ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের স্কোরবোর্ড বা বড় পর্দায় নিজের নাম দেখানোর জন্য স্লট কিনতে পারবেন। তবে এই নাম ম্যাচ চলার সময় দেখানো হবে না; ফিফার শর্ত অনুযায়ী, এটি মূলত ম্যাচ শুরুর আগের ইন-স্টেডিয়াম অভিজ্ঞতার অংশ।
ফিফার পেজে গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের জন্য এই সেবা রাখা হয়েছে। একজন সমর্থক কোন ম্যাচে কোন দলকে সমর্থন করছেন, তা নির্বাচন করে নিজের নাম জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি স্লটের দাম ৭৯ ডলার, কর বাদে। বর্তমান ডলার রেট ধরে এটি প্রায় ৯ হাজার ৭০০ টাকা। এক অর্ডারে সর্বোচ্চ চারটি স্লট নেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে খরচ দাঁড়াবে ৩১৬ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা।
তবে টাকা দিলেই বড় পর্দায় নাম ঠিক কখন, কতক্ষণ বা কোথায় দেখা যাবে তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না ফিফা। শর্তে বলা হয়েছে, সময়, স্থায়িত্ব ও অবস্থান নিশ্চিত নয়। এমনকি স্টেডিয়ামের সব দর্শক নামটি দেখতে পাবেন কিংবা টিভি সম্প্রচার, ডিজিটাল কভারেজ বা সামাজিক মাধ্যমে সেটি দেখা যাবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। অর্থাৎ এটি মূলত মাঠে থাকা দর্শকদের জন্য সীমিত এক অভিজ্ঞতা।
স্লটগুলো আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বিক্রি হবে। ম্যাচ শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। নাম জমা দেওয়ার পর সেটি ফিফার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। অনুপযুক্ত বা আপত্তিকর ভাষা ফিল্টার করা হবে। ফিফার অনুমোদনের পরই ক্রেডিট কার্ড থেকে অর্থ কাটা হবে।
এই উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে আগেই ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছে বিভিন্ন সমর্থক সংগঠন। অনেকের অভিযোগ, বিশ্বকাপ ক্রমেই সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে নাম দেখানোর জন্যও ৭৯ ডলার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
ফিফা অবশ্য বিশ্বকাপের উচ্চ খরচের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া বাজারের বাস্তবতায় দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আয় বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে। তবে সমর্থকদের একাংশের চোখে এটি আরেকটি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ, যেখানে বিশ্বকাপের আবেগকেও পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। ৪৮ দলের এই আসরে ম্যাচ হবে ১০৪টি। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর শুরুর আগেই মাঠের বাইরের নানা খরচ ও নীতিমালা নিয়ে আলোচনা চলছে। এবার সেই আলোচনায় যোগ হলো বড় পর্দায় নাম দেখানোর ৭৯ ডলারের সেবা।
বাংলাদেশি হিসাবে অঙ্কটা ছোট নয়। নিজের নাম কয়েক মুহূর্তের জন্য বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামের স্ক্রিনে দেখতে চাইলে খরচ হবে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আর সেটিও এমন এক সেবা, যেখানে দেখা যাওয়ার সময়, অবস্থান বা সম্প্রচারে ধরা পড়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।





