জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার 'আসামি' সহিদুর রহমান লিপনকে পুনরায় সভাপতি পদে নিযুক্ত করে বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জেলা তাঁতী লীগ।
জেলা তাতী লীগের আহ্বায়ক বলছেন,'নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকতেই পারে। এখন তিনি জামিনে আছেন। সেকারণেই তাঁকে সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামীকে উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা দেয়ায় রাজনৈতিক মহলে চলে নানা আলোচনা সমালোচনা।
জানা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডে সহিদুর রহমান লিপনের সংশ্লিষ্টতা জোড়ালো ভাবে উল্লেখিত হওয়ায় দলীয় ভাবমূর্তি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুন্নের অভিযোগে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে মামলা দায়ের আগের দিন ১৭ জুন বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি পদে থেকে লিপনকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করেছিলো জেলা তাঁতী লীগ।
অব্যাহতি পাওয়া সেই সহিদুর রহমান লিপনকে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে জামালপুর জেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রুকু এবং সদস্যসচিব আরমান হোসেন সাগর যৌথ স্বাক্ষরে আগামী ৩ বছরের জন্য বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নিযুক্ত করে দলীয় প্যাডে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করেন।
অভিযুক্ত সহিদুর রহমান লিপন (৩০) উপজেলার মালিরচর তকিরপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল করিমের ছেলে। হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি লিপনকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের উপজেলা শাখার সভাপতি পদে নিযুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত সাংবাদিক নাদিমের পরিবার। তাঁদের দাবি, সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে তাঁতী লীগ থেকে অভিযুক্ত লিপনকে বহিষ্কার করা হোক।
প্রসঙ্গত, উপজেলার সাধুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম বাবুকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ১৪ জুন রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন বাংলানিউজের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম। ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীনবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ১৮ জুন সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বাবুকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নাম উল্লেখে অজ্ঞাতনামা ২৫ জনের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে ১১ নম্বর আসামি করা হয় উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি সহিদুর রহমান লিপনকে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, নাদিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় তাঁতী লীগ নেতা লিপন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে লিপন সর্বাক্ত চেষ্টা চালায়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘ কিভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং এজাহারভুক্ত আসামিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন তাঁতী লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়। এ নিয়ে আমরা বিস্মিত। মূলত হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে মুক্ত করতেই সন্ত্রাসী লিপনকে তাঁতী লীগের লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি করা হয়েছে। আমরা চাই, সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে তাঁতী লীগ থেকে অভিযুক্ত লিপনকে বহিষ্কার করা হোক।'
মামলার আসামি ও বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি সহিদুর রহমান লিপন বলেন,'পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সাধারণ সম্পাদক ফেসবুকে পোস্ট করেছে ওইটা। আমি মামলায় জামিনে রয়েছি।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রুকু বলেন, 'নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকতেই পারে। সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় সহিদুর রহমান লিপনকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছিলাম। এখন তিনি জামিনে আছেন। সেকারণেই তাঁকে বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'
সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ইউসুফ আলী বলেন, ‘আসলে এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিকে ক্ষমতাসীন সহযোগী সংগঠনের উপজেলা শাখার সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া মানে আসামিকে পুরস্কৃত করার শামিল।’





