মতামত
সময় আছে ,কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেই- শিবলী মাহাদী- মতামত
admin
• 05 Jul 2021, 05:33 PM
• পঠিত 1 বার
বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতো ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ১৬৪ জন। এবং আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজারের উপরে। যেখানে শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ৷ গতো ১ সপ্তাহের পরিসংখ্যান বলতেছে প্রতিদিন শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এবং দেশের মোট করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশের দেহে ভারতীয় মরণঘাতী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এর সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। গতো ২৬ শে জুন যখন বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এর হার অনেক বেড়ে গিয়েছিলো তখন পরামর্শক কমিটি সরকারকে অনুরোধ করেছিলো এক সপ্তাহের শাট-ডাউন দিতে। অর্থাৎ দেশের অফিস-আদালত,মিল-কলকারখানা, যন্ত্রচালিত সকল বাহন সবকিছু বন্ধ থাকবে।
সরকার সিদ্ধান্ত নিলো তারা এটা কার্যকর করবে৷ কিন্তু সংসদীয় অধিবেশন শেষ করবার অযুহাত দিয়ে সেই শাট-ডাউন কার্যকর এর ঘোষণা দিলো ১ জুলাই থেকে। ১ জুলাই এর শাট-ডাউন প্রজ্ঞাপনে মিল-কলকারখানার মালিক দের অনুরোধে শাট-ডাউন না দিয়ে কঠোর লক-ডাউন ঘোষণা করে গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হলো।
মিল- মালিক দের মতো দরিদ্র দের সরকার কর্মের ব্যবস্থা ঠিকই করে দিলেন কিন্তু লাথি মারলো মধ্যবিত্ত আর দরিদ্রের পেটে। যার ঘরে খাবার নেই সে কাজে বের হলে জরিমানা হয় কিন্ত যাদের রিজার্ভ ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পড়ে আছে সে সমস্ত দরিদ্র দের অভাব বিমোচনের ব্যবস্থা করা হলো।
করোনা মোকাবিলা যদি করতেই হয় তাহলে গার্মেন্টস কেনো খোলা? সেখানে কি করোনা Prohibited? গার্মেন্টস কর্মীরা কি আইসোলেশন এ আছে?? এরা তো প্রতিদিন কাজ করে বাসায় ফিরছে অন্যদের সাথে মেলামেশা করতেছে আবার কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে। তাহলে করোনা কিভাবে প্রতিরোধ করা হলো? একজন শ্রমিক যদি নিশ্চিত ও হয় তার করোনা হইছে তবুও সে কাজে যাবে কারণ সে জানে কর্মে না গেলে পয়সা কেটে রাখবে৷
তখন সে চিন্তা করবে তার কারণে কে মরলো না বাচলো দেখার বিষয়না, বরং টাকা কেটে রাখলে পরিবার না খেতে পেয়ে মারা যাবে সেটাই দেখার বিষয়! তাই সে কাজে যোগ দিবে৷ আমি জানিনা সরকার ও কি জনগনের মতো এটাই বিশ্বাস করে কিনা যে গরিবের করোনা হয়না! যদি এমনটিই হয় তবে তাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে দিতে চাই সম্প্রতি IEDCR একটি জরিপ করেছে ঢাকা ও চট্রগ্রামের বস্তিবাসীর মধ্যে সেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ করেনায় আক্রান্ত।
এর মানে হলো গরীবের ও করোনা হয়৷ এর মানে হলো যদি সরকার এটা বিশ্বাস করে গার্মেন্টস খোলা রাখে তাহলে বলবো নীতিনির্ধারকেরা কুসংস্কার এ বিশ্বাসী। আর যদি সরকার এটা বিশ্বাস না করে গার্মেন্টস খোলা রাখে তবে বলবো দায়িত্বে অবহেলা। যদিও দায়িত্ব অবহেলার জন্য এদেশে কোনো জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নেই।
তাই সেটি কারো মাথা ব্যাথার কারণ নয়। এবার আসি দ্বিতীয় প্রসঙ্গেঃ বাংলাদেশ এখন করেনার সাথে পরিচিত। কারণ প্রায় দেড় বছর যাবৎ করোনার সাথে লড়াই করেই বেঁচে আছি আমরা। প্রতিবারই যখন করোনা সংক্রমণ অনেক বেশি বেড়েছে তখনিই লক-ডাউন দেওয়া হয়েছে। এবং সেটা দুই মাস হতে শুরু করে কমপক্ষে ১৫ দিন পর্যন্ত স্থানী করতে হয়েছে৷ কারন বাংলাদেশে বিপদসীমা অতিক্রম করার পরেই লক-ডাউন দেওয়া হয়। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো যখনিই সংক্রমণ বাড়ার আভাস দেয় তখন কেনো দেওয়া হয়না? অনেকেই বলবে লক-ডাউন দিলে গরীব খাবে কি?
ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে,অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাবে ইত্যাদি।তাহলে যখন লক-ডাউন দিতেই হয় তখন কি এই ক্ষতিগুলো হয়না? এবারের কথাই ধরি, ইতিমধ্যে চলমান লক-ডাউন ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে,ধারণা করা হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়তে পারে৷ ধরে নিলাম ১৮ দিন৷ এই ১৮ দিন কি অর্থনীতি ক্ষতি হচ্ছেনা?? অথচ এই লক-ডাউন টা যদি জুন মাসের ১২/১৩ তারিখে দেওয়া যেতো ১ সপ্তাহে দেশ স্থিতিশীল হয়ে যেতো৷
এতো এতো মানুষের মৃত্যু দেখতে হতোনা! হাজার হাজার পরিবার কে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হতে হতোনা। তাহলে লাভ বেশি কোনটায়? আমরা যদি অতীত থেকে শিক্ষা নিতে না পারি,তাহলে বলতে হবে এই বিপর্যয় আমরা নিজেরা ডেকে এনেছি৷ এর জন্য নীতিনির্ধারকেরা দায়ী।
এখনো বলছি সময় আছে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেই,কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেই,শক্ত হাতে বাস্তবায়ন করি তাহলে উত্তম ফলাফল আসবে৷ মনে রাখতে হবে মৃত্যু কে অবহেলা করা যাবেনা৷ প্রতিটি নাগরিকের জন্য বেঁচে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব৷ আজ একটি পরিবারের কর্তা করোনায় মারা গেলে তার পুরো পরিবার রাস্তায় নেমে যাবে। অর্থনীতি এখানেই ভেঙে যাবে৷ তাই অনুরোধ থাকবে অন্ততপক্ষে অর্থনীতির দোহাই দিয়ে যেনো বার বার ভুল সিদ্ধান্ত গুলো না নেওয়া হয়৷ এতে করে দেশ জাতির মঙ্গল হবে।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।





