Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

শেষ কর্মদিবসে বেআইনিভাবে দলিল রেজিস্ট্রি

admin • 25 May 2024, 10:35 AM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
শেষ কর্মদিবসে বেআইনিভাবে দলিল রেজিস্ট্রি

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শেষ কর্ম দিবসে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে জমি রেজিস্ট্রির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরে নয় বিঘা জমির দলিল রেজিস্ট্রির এই অভিযোগ উঠেছে দেবীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার শিরিন আকতারের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দেবীগঞ্জ পৌরসভার নতুনবন্দর এলাকার নব্বই বছর বয়সী জাহেদ আলীকে তার মেয়েরা জমি রেজিস্ট্রি নেওয়ার উদ্দেশ্যে হুইল চেয়ারে বসিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। অথচ তিনি বার্ধ্যক্য ও পক্ষাঘাত জনিত কারণে চলাফেরা ও কথা বলতে পারেন না। জাহেদ আলীর অন্যান্য ওয়ারিশরা প্রথম থেকে বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। অথচ সাব-রেজিস্ট্রার তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। যার দলিল নাম্বার ১৪১৮। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে তা সংরক্ষিত আছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে জাহেদ আলীর বড় ছেলে মৃত রেজানুর হাসান মঞ্জুর মেয়ে শাহনাজ পারভীন বলেন, "আমাকে আমার বাবার হক থেকে বঞ্চিত করে আমার সাত ফুপু নিজেদের নামে জমি লিখে নিল। আমি সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও অফিস টাইম শেষে একজন ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হলো।"

সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাব-রেজিস্ট্রার শিরিন সুলতানা অফিস ত্যাগ করার সময়ে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের মুখে বলেন, "আপনারা আমার জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে কমপ্লেইন করেন। আমি থানায় এবং ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি। দাতা রাজি ছিল তাই জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে।"

গণমাধ্যম কর্মীরা পুনরায় প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করেন।

এর আগে বিকাল পৌনে ছয়টায় সাব-রেজিস্ট্রার শিরিন আক্তারকে মুঠোফোনে জাহেদ আলীর কাছে থেকে জোর করে জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। সে সময় তিনি জানান এমন কেউই তার সাথে দেখা করেননি।

এদিকে, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, "দুপুরেও জাহেদ আলীর মেয়েরা সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে দেখা করেন। কিন্তু তখন তাদের চলে যেতে বলা হয়।"

ঘটনাস্থলে থাকা দেবীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, "জোর করে জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এখানে এসেছিলাম সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে। এসে দেখি দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। এর আগেও আমরা একবার এসেছিলাম। তখন সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন এমন কোন ঘটনা ঘটেনি, তাই ফিরে যাই।"

এইদিকে জাহেদ আলীর নাতনী শাহনাজ পারভীন অভিযোগ করে বলেন, এই পুরো ঘটনায় সাব রেজিস্ট্রারকে সহযোগিতা করেন দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত মঞ্জুরুল ইসলাম মনু। তিনি দলিলটি সম্পাদন করেন।

পুলিশের উপস্থিতিতে গণমাধ্যম কর্মীরা জমির দাতা জাহেদ আলীর সাথে কথা বলতে চাইলে তার মেয়েরা বাধা দেন। এরপর সেখানে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মনু গণমাধ্যম কর্মীদের বাধা দিয়ে নিজেকে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি পরিচয় দেন। এরপর গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, "সরকার আমাকে লাইসেন্স দিছে কিসের জন্য, আমাকে আইন শিখতে হবে? আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি এরপরও কেন?"

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, "দুপুরে তারা একবার এসেছিনেন কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার ফিরিয়ে দিয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় সেই জমি রেজিস্ট্রি হয়। এছাড়া বিকেল ৩টার পর কোনভাবেই জমি রেজিস্ট্রি করতে পারবেন সাব-রেজিস্ট্রার।"

এই বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকশির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

অভিযুক্ত সাব রেজিস্ট্রার শিরিনা আক্তার বোদা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বে আছেন। দেবীগঞ্জে সাব রেজিস্ট্রার না থাকায় সেখানকার অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি এবং গত বৃহস্পতিবার দেবীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ছিলো তার শেষ কর্ম দিবস।

উল্লেখ্য, জাহেদ আলী বার্ধক্য ও পক্ষাঘাত জনিত কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ও কথা বলতে পারেন না। ঘটনার সময় তাকে জমি রেজিস্ট্রির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি কোন জবাব দিতে পারেননি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।