Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতা তহবিলের ৭ হাজার কোটি টাকা গায়েব

admin • 15 Apr 2026, 07:52 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতা তহবিলের ৭ হাজার কোটি টাকা গায়েব

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের সাত হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বিগত সরকার।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সিলেটের মেন্দিবাগ অডিটরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের ২০২২ সালের পর অবসর ভাতা, কল্যাণ ট্রাস্ট ভাতা আপনাদের দেয় না। ২০২৩ গেল, ২০২৪ গেল, ২০২৫ গেল—আপনারা এক টাকাও পাননি। কারণ, সাত হাজার কোটি টাকা বিগত সরকারের সময় যারা এই দায়িত্বে ছিল তারা আত্মসাৎ করেছে।

তিনি বলেন, আগামী বাজেট পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। থোক বরাদ্দ পেতে হবে, তারপর দিতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে শিক্ষকদের এগোতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষক টাকার অভাবে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।

এ সময় শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল, মেডিকেল অ্যালাউন্স, হাউস রেন্টের কথাও সরকার ভাবছে বলে জানান আ ন ম এহসানুল হক।

এদিকে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিবিধানের বাইরে থাকবে; এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে উচ্চ বেতনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় মান নিয়ন্ত্রণ, কারিকুলামের সামঞ্জস্য এবং শিক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা যদি শুধু বিত্তবানদের নাগালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তাহলে সামগ্রিকভাবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হবে।

এহসানুল হক মিলন বলেন, সরকার চায় প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা পাবে। সে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক না কেন। এ জন্য সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।

শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিতে সবার একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার একা সব করতে পারবে না। শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সিলেট অঞ্চলে শিক্ষার উন্নয়নে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রবাসী-অধ্যুষিত এই অঞ্চলে শিক্ষা খাতে বিশেষ তহবিল গঠন করা গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সভায় বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।