Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
মতামত

শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে?

admin • 02 Apr 2023, 06:10 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে?

শিবলী মাহাদী, কলামিষ্ট!!

শিক্ষক কেন ছাত্রের জিম্মায়!  ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হলো আত্নার সম্পর্ক। এ সম্পর্কে থাকেনা অহংকার,গরীমা,বড়াই। ছাত্র যতো বড় কিংবা যোগ্যতায় উচুমানের হয় শিক্ষকের সামনে আসলে সে নমনীয় হয়ে মস্তক নত হয়ে শিক্ষকের পায়ে আশ্রয় নেয়। এতে করে ছাত্রের যোগ্যতা, কিংবা সম্মান কোনোটিই খাটো হয়না।

আবার যুগ যুগ ধরে যোগাযোগ না থাকলেও ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের থাকে সন্তানতুল্য ভালোবাসা,দোয়া। দেখবেন শিক্ষক যখন তার ছাত্রকে স্মরণ করে তখন আমার অমুক, আমার তমুক বলেই সম্বোধন করে। বৃদ্ধ বয়সেও শিক্ষক চায়ের টেবিলে ছাত্রকে নিয়ে গল্প তুলে। এটিই ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক ছিলো বা হওয়া উচিত ছিলো।

এখন তবে সম্পর্ক কেমন?

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক এখন বন্ধুর মতো। একজন আরেকজন এর মনের খবর জানে, একজন আরেকজন এর অনৈতিক কাজের সাক্ষী হয়। ফলাফল দাড়ায় ভবিষ্যতে ওই ছাত্র শিক্ষককে দেখলে সালাম পর্যন্ত দেয়না। শিক্ষকের সামনে অপরাধ না ঢেকে বরং শিক্ষককে অপরাধে যুক্ত করে নিতে চায়। যদিও এখনো মুষ্টিমেয় শিক্ষক তাদের মর্যাদা ধরে রেখেছে।

শিক্ষকের অধ:পতন কেনো এবং কিভাবে?

প্রবাদে আছে, অভাবে স্বভাব নষ্ট । শিক্ষকরা স্পষ্টই অভাবে আছেন। অথচ শিক্ষকদের বেতন,ভাতা,সুযোগ-সুবিধা সর্বোচ্চ হবার দরকার ছিলো। একজন শিক্ষক যে টাকা বেতন পায় সেটি দিয়ে সংসার চালাতে হলে একজন নিম্ন আয়ের মানুষের মতো জীবনযাপন করতে হবে।

খুব উন্নতমানের স্কুল কলেজ হলে একজন শিক্ষকের বেতন সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ হাজার টাকা। নৈতিক উপায়ে এর থেকে বেশি হবার কথা নয়। কিন্তু একজন রিক্সাচালক চাইলে মাসে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারে। তাহলে কি শিক্ষক রিক্সাওয়ালদের মতো করে জীবন পরিচালনা করবে?না।

কোনোদিন না! তাই শিক্ষককে অতিরিক্ত আয়ের পেছনে দৌড়াতে হয়। সেটি হলো কোচিং বাণিজ্য। আর এখানে এসেই শিক্ষকগণ তাদের নৈতিকতা বিসর্জ্জন দিয়ে ফেলেন। প্রতিযোগীতামুলক এই কোচিং ব্যবসায় ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হয়ে যায় লোকাল বাস ও তার যাত্রীর মতো।

ছাত্রকে নিজের কোচিং এ আনতে শিক্ষক ছাত্রকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ফেলে যেখান থেকেই ছাত্র-শিক্ষকের বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কের সূচনা ঘটে। নানান কায়দায় নানান কৌশলে শিক্ষক ছাত্রকে কোচিং এ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। যারা শিক্ষকের ডাকে সাড়া দিতে না পারে তাদের সাথে স্বভাবতই শিক্ষক বৈষম্যমুলক আচরণ করে ফেলে যেখানে থেকে ছাত্রের মনে শিক্ষকের প্রতি আদব, শ্রদ্ধা উঠে যায়!

এখন শিক্ষক কারা হয়?

আমার সাথে অনেকের মতের অমিল থাকতে পারে তবে আমি যুক্তিতর্ক, পরিসংখ্যান দিয়ে জোড় গলায় বলতে চাই বর্তমানে শিক্ষক পেশায় আসে সমাজের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্ররা।বিসিএস থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারির তৃতীয় শ্রেণির চাকুরী পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে তবে অগতির গতি হিসেবে শিক্ষক পেশায় এখন ছাত্ররা আসছে। এটি মানতে কষ্ট হলেও এটিই এখন বাস্তবতা! একজন মানুষ শিক্ষিত হয়ে সবার আগে তার নিজের ও পরিবারের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা খোঁজে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য শিক্ষকতা পেশায় জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নেই।

সুতরাং সমাজের তৃতীয় শ্রেণীর হাতেই জাতির মেরুদণ্ড নির্মাণ করার দায়িত্ব পড়েছে ফলে জাতির মেরুদণ্ডের ভবিষ্যত আশংকাজনক,হুমকির মধ্যেই পড়েছে। মানহীন শিক্ষাদান এর ফলে মানহীন শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসছে যারা আধুনিক ,প্রতিযোগীতামুলক চাকুরীর জগতে এসে চোখে সরিষা ফুল দেখছে।

এখন আমাদের করণীয় কি? শিক্ষক পেশায় মেধাবীদের আনতে হলে সর্বপ্রথম নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা। সমাজের ১ম শ্রেণীর অফিসারগণ ফ্লাট, প্লট পেলে শিক্ষক কেনো বঞ্চিত হবে? শিক্ষকের জন্য প্লট ও ফ্লাট এর ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ে শিক্ষকদের জন্য স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে।

শিক্ষকদের সন্তান এর জন্য শিক্ষা কোটা রাখতে হবে। সমস্ত শিক্ষকদের রেশন সুবিধার আওতায় আনতে হবে। অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থা রাখতে হবে তবেই সমাজের প্রথম শ্রেণীর ছাত্ররা আগ্রহের সাথে শিক্ষকতা পেশায় আসবে। পড়াশোনার মান উন্নত হবে।

শিক্ষকের জীবনের নিরাপত্তা কেনো? ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের মাঝে শাষন থাকতে হবে।শাষন করা ছাড়া ছাত্র মানুষ করা যাবেনা। শিক্ষকের হাতে বেত তুলে দিতে হবে। শাষন পরবর্তী শিক্ষকের নিরাপত্তার জন্য শিক্ষককে একজন সহকারী মাজিস্ট্রেট পদমর্যাদা দিতে হবে।

শুধুই কি শিক্ষকের দোষ? দোষ শিক্ষকের নয় বরং দোষ ছাত্রের। কিন্তু ছাত্রের দোষ বয়স কম বলে মানা গেলেও শিক্ষকের দোষ মানা যায়না। শিক্ষক শক্ত অবস্থানে গেলে ছাত্র আপনাআপনি শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে। সরকার কে গণহারে পাশ করানো বন্ধ করতে হবে। পানির দরে সার্টিফিকেট বিলিয়ে সমাজের বোঝা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন দেখিনা।

সবশেষে একটি কথা বলতে চাই, সমাজের সকল শিক্ষক এক নয়। এখনো সমাজে নীতিবান, বিবেকবান শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। জাতির অদুর ভবিষ্যত সংকটে দেখেই আমার এই লিখনি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।