Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

রাসেল ভাইপারকে বটগাছে ঝুলিয়ে ফাঁসি দিল গ্রামবাসী

admin • 12 Jul 2024, 02:44 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
রাসেল ভাইপারকে বটগাছে ঝুলিয়ে ফাঁসি দিল গ্রামবাসী

সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন উঠানে। হঠাৎ ই সিঁড়ির নিচে কিছু একটা নড়তে দেখে এগিয়ে যান। হাতে থাকা স্মার্টফোনের টর্চ জ্বালালে সহজেই টের পান এটা বিষধর রাসেল ভাইপার। তারপর চেঁচামেচি করে কয়েকজনকে ডেকে কাঁদালের(বাঁশের লাঠি)সাহায্যে পিটিয়ে হত্যা করেন সাপটিকে।

 

পরে স্থানীয় লোকজন সাপটির গলায় দড়ি পেঁচিয়ে মোড়ের বটগাছে ঝুলিয়ে রাখে ঘন্টা খানেক। এরপর ঘোষপাড়া মোড়ের একটি বাঁশ বাগানের বাঁশে ঝুলিয়ে পেটে বাচ্চা আছে কিনা জানতে বাটাল দিয়ে চিরে দেখা হয় পেট। নেটিজেনদের বদলৌতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ও পরে ঘটনার ছবি সহ ভিডিও।

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়রামপুর ফকির পাড়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় ঘটে এমন ঘটনা।

 

উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, এভাবে একটি জীবকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে পেট চিড়াই করা আইন বিরোধী ও নেক্কারজনক।

 

এদিকে গ্রাসবাসী বলছেন, সাপটি ভয়ংকর ও বিষধর হওয়ায় লোকজনের মাঝে পরিচিত করতে এবং সকলকে সচেতন করতে গাছে ঝোলানো হয়েছে।

 

রাসেল ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের চারটি মারাত্মক বিষধর সাপের একটি। চন্দ্রবোড়ার বিষ হেমটক্সিক যার প্রভাবে লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংস হয় এবং দ্রুত এনটিভেনম প্রয়োগে ব্যর্থ হলে ফুসফুস কিডনি ও হৃদযন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

 

সম্প্রতি বর্ষার পানিতে নদী-নালা খাল বিল ভোরে ওঠায় প্রায়ই লোকালয়ে দেখা মিলছে বিষধর সাপটির। পদ্মার তীরবর্তী হওয়ায় দয়রামপুরেও তাই সাপটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সরেজমিন ঘুরে ঘুরে জানা গেছে, রাত ৮ টার দিকে দয়রামপুর ফকির পাড়ার হাসেন শেখের ছেলে মোঃ হাসান শেখ নিজ বাড়িতে সিঁড়ি দিয়ে উঠানে নামছিলেন । সিঁড়ির নিচে সাপটিকে দেখতে পেয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীর সহযোগে বাঁশের লাঠি (কাদাল) দিয়ে হত্যা করে সাপটিকে। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে প্রথমে মোড়ের বটগাছে এবং পরবর্তীতে ঘোষপাড়া মোড়ের বাঁশ বাগানে ঝুলিয়ে রাখে। পেটে বাচ্চা আছে কিনা জানতে বাটাল দিয়ে চেড়াই করে দেখা হয়।

এবিষয়ে হাসান শেখ জানান, ঘরের সিঁড়ি দিয়ে উঠানে নামতে প্রায় সাড়ে তিন ফিট লম্বা একটি সাপ দেখতে পাই। তৎক্ষণাৎ চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডেকে লাঠি দিয়ে মারা হয় সাপটিকে। পরে বুঝতে পারি সাপটি ছিল ভয়ঙ্কর রাসেল ভাইপার।

বটতলা এলাকার বাসিন্দা চুন্নু মিয়া জানান, এলাকায় রাসেল ভাইপারের দেখা মেলার বিষয়টি জনমনে ভয়ের পাশাপাশি সচেতনার সৃষ্টি করবে। সাপটিকে সবার কাছে পরিচিত করতে এবং সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই ঝোলানো হয়েছে।

তবে বাটাল দিয়ে পেট চেড়ায় করার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

এদিকে বাড়ির উঠোনে সিঁড়ির নিচে বিষধর রাসেল ভাইপারের উপস্থিতি জনমনে ভিতির সৃষ্টি করেছে। দয়রামপুর ঘোষপাড়ার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা জানান, এতদিন শুধু টেলিভিশন বা সংবাদপত্রেই দেখেছি। এখন রাসেল ভাইপার আমাদের ঘরের সিঁড়ির নিচে পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে আমরা খুব শংকিত।

তবে সতর্কতার সাথে চলাফেরার পাশাপাশি সবাইকে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় প্রচার প্রচারণা চালাবেন বলেও জানান তারা।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে উপজেলার শিলাইদ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে প্রায় চার ফুট লম্বা একটি রাসেল ভাইপার মেরে একইভাবে গাছে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয় গ্রামবাসী।

অন্যদিকে রাতের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার(১২ জুলাই) সকালে হাশিমপুর বাজারে একই রকম আরেকটি রাসেল ভাইপারের দেখা মেলে। পরে স্থানীয়রা সেটাকে মেরে নিরাপদে মাটিতে পুতে রাখে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।