Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

যা পাওয়া গিয়েছিল বেনজীরের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে

admin • 15 Jun 2026, 10:22 AM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
যা পাওয়া গিয়েছিল বেনজীরের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হতে পারে- এমন আশঙ্কায় তিনি ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবারে দেশ ছাড়েন। তবে শেষ পর্যন্ত দুদকের করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মীর্জা, বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর এবং ছোট মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

এর মধ্যে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অবস্থিত র‌্যাঙ্কন টাওয়ারের চারটি ফ্ল্যাট একত্র করে একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট নির্মাণ করেন বেনজীর। ফ্ল্যাট নম্বর ১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ ও ১৩/বি নিয়ে গড়ে তোলা ওই ডুপ্লেক্সে সুইমিং পুল, মিনি থিয়েটার, অতিথি আপ্যায়নের বৈঠকখানাসহ আধুনিক নানা সুযোগ-সুবিধা ছিল।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৬ জুন আদালত বেনজীরের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন। পরে ৩০ জুন তার স্ত্রী ও কন্যাদের নামে থাকা গুলশানের ওই চারটি ফ্ল্যাটের তালা খুলতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয় দুদক। পরবর্তীতে ফ্ল্যাটে থাকা জব্দকৃত পরিবারের ব্যবহৃত সব সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের মধ্যে ছিল বিলাসবহুল পণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী। টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওভেন, ডিশওয়াশার, কাঁথা-বালিশ, হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন, পাটা-পুতা, এমনকি মশা মারার ব্যাটও জব্দ করা হয়। পোশাকের মধ্যে ছিল শার্ট, প্যান্ট, লুঙ্গি, আন্ডারগার্মেন্টস, গেঞ্জি, ওড়না, শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের জুতা।

তালিকা অনুযায়ী, ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় ৭২২টি টি-শার্ট, ৬২২টি লেডিস টপস, ৪৯৬টি সালোয়ার-কামিজ, ৪৯৪টি শাড়ি, ৩৫৫টি লেডিস প্যান্ট, ৩৪৭টি ওড়না, ২৬৬টি প্যান্ট, ২৫০ সেট থ্রিপিস, ২২৪টি পাঞ্জাবি, ২১২টি জামা, ১৩২টি শীতের পোশাক, ১২২টি শার্ট, ১০৯টি বেডশিট, ৮৯টি শাল-চাদর, ৮৮ জোড়া স্যান্ডেল, ৭৫টি ভ্যানিটি ব্যাগ, ৬৭টি ট্রাউজার, ৬৫টি ব্লাউজ, ৫৮টি নাইট ড্রেস, ৫৬টি জ্যাকেট, ৪৭টি পায়জামা, ৩৮ জোড়া জুতা, ৩৫ জোড়া কেডস, ৩৪টি সানগ্লাস, ৩০টি ব্লেজার, ১৬টি লেহেঙ্গা,৮টি স্যুট এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পারফিউম।  এ ছাড়া ফ্ল্যাটটিতে ১৯টি ফ্রিজ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ছিল, যেগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় ১০০ টন। সুইমিং পুলে ব্যবহৃত আধুনিক সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক পণ্যও উদ্ধার করা হয়।

জব্দ করা এসব সামগ্রী নিলামে বিক্রির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। এ উদ্দেশে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা নিলাম প্রক্রিয়ার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। তবে শেষ পর্যন্ত নিলাম না করে ব্যবহৃত সামগ্রীগুলো তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করা হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বলেন, গুলশানের ফ্ল্যাটে পাওয়া সম্পদ জব্দ করার পর বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। প্রথমে এসব ব্যবহৃত সামগ্রী নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে সেগুলো প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।