রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান দুজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতেরা হলেন মুন্না হাওলাদার (২২) ও নাসির হোসেন (৩০)।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মুন্নার সঙ্গে তাঁর প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ১০ থেকে ১৫ জন মুন্নাকে কুপিয়ে জখম করে। তাঁকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান তিনি। একই সময় একই এলাকায় নাসির নামের আরও একজনকে কোপানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই মারা যান তিনি।
আলী ইফতেখার হাসান বলেন, দুই গ্রুপের স্বার্থের টানাপোড়েনেই এই হত্যাকাণ্ড। মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি একই গ্রুপের সদস্য। তাঁদের নামে একাধিক মামলাও আছে।
নাসিরকে হাসপাতালে নেওয়া বন্ধু শাওন আহমেদ বলেন, ‘আমি আর নাসির দুজনে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলাম। আমি সাদেক খান আড়তে যাব এবং নাসির তিন রাস্তার মোড়ে যাবে। আমাকে বলল, ভাই আমাকে একটু তিন রাস্তার মোড়ে নামায় দেন। এ সময় ওই এলাকায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে একটি গ্রুপ দৌড়াদৌড়ি করছিল। পরে পেছন থেকে কয়েকজন এলোপাথাড়ি কোপানো শুরু করে নাসিরকে। পরে নাসির মোটরসাইকেল থেকে নেমে দৌড় দিলে তাঁকে ধরে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। বলতে থাকে, জবাই করে দে ওরে। পরে আমি একজনকে ধরে ফেলি এবং দুজনেই পড়ে যাই। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে উপস্থিত হলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যায় নাসির।’
শাওন আরও বলেন, ‘আমরা যাওয়ার সময় ওইখানে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। কী কারণে দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল তা বলতে পারছি না। নাছির হাজারীবাগ থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিল। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করত।’





