জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিয়ের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় মিলি আক্তার (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভোরে পৌরসভার মেষেরচর পশ্চিম পাড়া এলাকার স্বামীর বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মিলি আক্তার ওই এলাকার রোমান মিয়ার স্ত্রী এবং পৌরসভার কাগমারি পাড়া গ্রামের ফকির আলীর মেয়ে।
শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানায়, বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল। বুধবার রাতে খাবার শেষে মিলি নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়েন। পরে স্বামী ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে দরজা ভেঙে দেখেন, মিলি আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে ঝুলছেন।
অন্যদিকে নিহতের বাবা ফকির আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ে কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। ওরা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। বিয়ের ২৬ দিনের মাথায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার কোনো কারণ নেই।”
নিহত মিলি আক্তারের বড় ভাই মাহিন বলেছেন, "আমার বোন যদি আত্মহত্যাই করবে, তাহলে পুলিশ গিয়ে লাশ নামাতো। কিন্তু আমরা দেখেছি, বোনের মাথার বিভিন্ন অংশে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "ঘটনার পরপরই শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেন পালিয়ে গেলো? আমার বোনকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দেওয়ার নাটক সাজানো হয়েছে।" তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বোন হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নববধূর মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে।”





