নানা আয়োজনে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় মেলান্দহ হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে মির্জা আজম অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে হানাদার মুক্ত দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে অডিটোরিয়াম থেকে র্যালী একটি বের হয়ে মেলান্দহ বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে আবার অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।
পরে মির্জা আজম আধুনিক অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম মিঞা'র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কামরুজ্জামান।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন, মেলান্দহে হানাদার মুক্ত দিবসে প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম। আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযুদ্ধা সৈয়দ হারুন অর রশীদ, সাবেক জেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযুদ্ধা সুজায়েত আলী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ ইউনুস আলী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন আখতার, মেলান্দহ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আসাদুল্লাহ ফারাজী মেলান্দহ থানার তদন্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন প্রমুখ।
এসময় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা ও গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেলান্দহ থানার (ওসি) জোনাব আলী ও তার সহযোগী আব্দুল হক আকন্দ, নুরুর রহমান সরকার, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল্লাহ, আব্দুল গেনা, করিম ভেদা, আব্দুল লতিফ, মোহাম্মদ আলী, শমসের আলী, শহিদুল্লাহ, হাশেমসহ মোট ৪৬ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে।
মুক্তিযুদ্ধে মেলান্দহ সদর, মাহমুদপুর পয়লাতে দুইটি সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল। মাহমুদপুর যুদ্ধক্ষেত্রে করিমের সহযোদ্ধা ইউসুফ আলীর ব্রাশফায়ারে ১২ পাক সেনা নিহত হয়। ওই দিন বিকেলে আলম কোম্পানির টু আইসি কমান্ডার আব্দুল করিম মেলান্দহের উমির উদ্দিন পাইলট হাইস্কুল মাঠে প্রথম পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মেলান্দহকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন।





