সেলফি পরিবহনের বাসের চাপায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী রুবেল পারভেজ নিহতের ঘটনায় তাঁর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। যেখানে সেলফি কর্তৃপক্ষ দিয়েছে ৮ লাখ। আর সরকারিভাবে দেওয়া হবে ৫ লাখ। মোট ১৩ লাখ টাকা পাবে নিহতের পরিবার।
জানা যায়, সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সেলফি পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফিসহ কয়েকজন আলোচনায় বসেন। পরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে বাস কর্তৃপক্ষ থেকে ৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত পাঁচ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ক্ষতিপূরণের দাবিতে সেলফি পরিবহনের ১৫টি বাস আটকে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে সোমবার ৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, ‘সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ৮ লাখ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আর সরকারি ফান্ড থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। ৮ লাখ টাকা নিহত রুবেলের ভাই এবং শ্যালকের কাছে দেওয়া হয়েছে।’
সেলফি পরিবহনের ব্যবস্থাপক পরিচালক (এমডি) জালালউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করেছি।
নিহত রুবেলের বাচ্চার ভরণপোষণের দায়িত্বও নিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, জাবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রুবেল পারভেজ ৪১তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ডে সেলফি পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে একটি বাস যাত্রীদের চাপা দেয়। এতে রুবেলসহ দুজন নিহত হন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাবির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি দল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী সেলফি পরিবহনের অন্তত ২০টি বাস আটকে রাখেন।
পরদিন শুক্রবার সকালে আরো পাঁচটিসহ মোট ২৫টি বাস আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে ১০টি বাস ছেড়ে দেওয়া হয়, ১৫টি বাস আটকে রাখা হয়। এরপর ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে সেলফি পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েক দফা আলোচনায় বসে। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা শেষে ৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে পাঁচ দিন পর আজ রাতে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।





