Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

বশেফমুবিপ্রবিতে গভীররাতে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ

admin • 04 Sep 2024, 10:48 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
বশেফমুবিপ্রবিতে গভীররাতে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ

জামালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) মির্জা আজম হলে ফাহাদ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থীকে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মির্জা আজম হলের গেস্ট রুমে শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

 

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,'রাত সাড়ে দশটার দিকে হলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের ও তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আচার-আচরণ একটি মিটিং ডাকেন। পরবর্তীতে চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিটিংয়ে ডাকা হয়। এসময় চতুর্থ ও তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আচরণ শিখানো নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নানান ধরনের কথাবার্তা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করেন। পরে ওই ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থী ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সিনিয়র দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সমঝোতা হন।

 

পরে রাত ১২ টা দিকে তৃতীয় ব্যাচকে ডেকে কেমন কি শেখানো হয়েছে তা জানতে চায় দ্বিতীয় ব্যাচের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এসময় তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানায় চতুর্থ ব্যাচের আর ভুল ভ্রান্তি করবে না। পরে রাত ২ টা দিকে সিনিয়র শিক্ষার্থী অপি, আদর ও সৈকতের নির্দেশে হলের গেস্ট রুমে (১০৫ নম্বর) নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ফাহাদ আহমেদ কে ডাকা হয়। পরে রাতভর মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে ভোর রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ফাহাদ আহমেদ। পরে তাঁর সহপাঠীরা উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ ফাহাদ বলেন,'আমি রাত ১১টার দিকে নামাজ পরে আসে রাত ১১.৪০ দিকে ৩য় ব্যাচের সিনিয়র বড় ভাইরা আমাকে ডেকে নিয়ে যায় এবং আমাকে গালাগালি করা শুরু করেন। এই সময় আমি বলি আমরা ৪র্থ ব্যাচ কিন্তু বিপ্লবী হয়ে উঠবো। এই কথা শুনে সৈকত ভাই আমার উপর প্রচুর রাগান্বিত হয়ে গালাগালি শুরু করেন। তারপর আমি মাফ চেয়ে রুমে চলে আসি এবং আমি ঘুমিয়ে পড়ি। তারপর রাত ২ টায় সৈকত ভাই সহ আরো কয়েকজন সিনিয়র ডেকে নিয়ে যায়। এই সময় আমাকে ২০-২২ জন মানসিকভাবে অনেক নির্যাতন করেন। তাঁরা গালি-গালাজ, হুমকি-ধামক ও ভয়-ভীতি দেখায়। পরে এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি তারপর কি হয়েছে আর জানিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভিক্টিমের রুমমেট জানান,'রাত ২.৩০ মিনিটে মির্জা আজম হলের ৩০৯ নম্বর রুম থেকে সিএসই বিভাগের ফাহাদ কে সমাজকর্ম বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈকত ১০৫ নম্বর রুমে (গেস্ট রুম) ডেকে নিয়ে যায়। প্রায় ২ ঘন্টা পর তাঁরা ফাহাদ কে নিজ রুমে অজ্ঞান অবস্থায় প্রায় রাত ৪.৩০ মিনিটে রেখে চলে যায়।'

 

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সিনিয়র শিক্ষার্থী অপি, সৈকত ,আদর , আল-আমিন ,রিয়াজ, আমজাদ, বেলায়েত , সিফাত ও মারুফ।

অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন ,সদস্য আল সিফাত চৌধুরী।

অভিযুক্ত সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুর রহমান আদর বলেন,' আমার বিষয়ে যে অভিযোগ গুলো আনা হয়েছে তা মিথ্যা। আমাদের গোপন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তাঁর অন্য সমস্যায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল।

 

অভিযুক্ত মেহরাব হোসাইন অপি বলেন,'আমরা সিনিয়র জুনিয়র একসাথে থাকি বিভিন্ন কারণে মনমালিন্য হতে পারে এমন একটা বিষয়ে আমরা সিনিয়র জুনিয়র মতবিনিময় করেছিলাম। সেদিন রাতে না ঘুমানোর কারণে অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর আমরা তাঁর মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাগিং ও বুলিং কমিটির আহ্বায়ক মৌসুমী আক্তার বলেন,'কিছুক্ষণ আগে স্যারের কাছ থেকে শুনলাম, এক শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনায় আগামীকাল একটি মিটিং ডাকা হয়েছে। এটুকুই শুনেছি আমি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।